দেশের বন্যা পরিস্থিতিতে মেহজাবীন, ইরফান ও তটিনীর মানবিক আহ্বান
বিনোদন ডেস্ক: টানা ভারী বৃষ্টি আর উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের সাতটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট ও মৌলভীবাজারের লাখ লাখ মানুষ এখন ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। দেশের এই মহাসংকটে শুধু সাধারণ মানুষই নন, চরমভাবে ব্যথিত হয়েছেন বিনোদন জগতের তারকারাও। বন্যাকবলিত প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় মানুষদের উদ্ধারে এবং তাদের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দিতে এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোরালো আওয়াজ তুলেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় তারকারা।
বন্যাকবলিত অসহায় মানুষের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন চট্টগ্রামের সন্তান ও দেশের জনপ্রিয় মেগা তারকা মেহজাবীন চৌধুরী। তিনি নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের জন্য আমার অন্তরের অন্তস্তল থেকে আন্তরিক দোয়া। এই কঠিন দুর্যোগে যারা নিজেদের আপনজন, আজীবনের স্বপ্নের ঘরবাড়ি কিংবা জীবিকা হারিয়েছেন, আল্লাহ যেন তাদের এই শোক কাটিয়ে ওঠার ধৈর্য এবং শক্তি দান করেন।”
মেহজাবীন তাঁর পোস্টে আরও যোগ করেন, এই দুর্যোগের মুহূর্তে যারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের প্রতি আমাদের সবার শ্রদ্ধা ও গভীর কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত। এর পাশাপাশি তিনি সমাজের বৃত্তবান এবং সাধারণ মানুষকে যার যার নিজস্ব সামর্থ্য অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ দেন।
পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের নিম্নাঞ্চল। নিজের জন্মভূমির এমন করুণ দশা দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও বুকফাটা আর্তি প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের সন্তান অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ। বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলোর নাম উল্লেখ করে এক আবেগঘন পোস্টে ইরফান লিখেছেন, “আমার চট্টগ্রাম ভালো নাই..! বাঁশখালী, সাতকানিয়া, চকরিয়া, লোহাগাড়া, কক্সবাজার, বান্দরবন ভালো নাই! অথচ জাতীয় গণমাধ্যমে এটা নিয়ে মেজর কোনো নিউজ নাই! কোনো জোরালো আওয়াজ নাই! মানুষগুলো নীরবে মরে যাচ্ছে, তীব্র কষ্ট পাচ্ছে, এমনকি কবর থেকে লাশ পর্যন্ত পানির তোড়ে ভেসে যাচ্ছে!”
অতীতের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে চট্টগ্রামের মানুষের প্রতি বৈষম্যের এক সুপ্ত ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে এই অভিনেতার লেখায়। তিনি আরও লেখেন, “বিগত দিনে কুমিল্লা, নোয়াখালী কিংবা ফেনীর বন্যার সময় এই চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষজন যার যা কিছু সামর্থ্য ছিল, তা নিয়েই ট্রাকে ট্রাকে করে তাদের উদ্ধার করতে এবং খাবার দিতে ছুটে গিয়েছিল। অথচ আজকে এই চট্টগ্রামের লাখ লাখ বন্যাপীড়িত মানুষকে উদ্ধারে দেশের অন্য অঞ্চলের মানুষের তেমন কোনো সাড়াশব্দ নাই, বড় কোনো আওয়াজ নাই। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের ওপর রহম করেন।”
অন্যদিকে, বর্তমান প্রজন্মের তরুণ ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী বন্যাকবলিত এলাকার মানুষদের বাঁচাতে সবাইকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, সিলেট, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা এখন সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষের সাজানো ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে, অনেক মানুষ এই মুহূর্তে ঘরের ছাদে কিংবা আশ্রয়কেন্দ্রে খাবার ও পানির অভাবে চরম মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।”
সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থানে থাকা নাগরিকদের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তটিনী বলেন, “আমরা যারা এখন ভালো ও নিরাপদ আশ্রয়ে আছি, এই বিপদের দিনে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের পরম মানবিক দায়িত্ব। আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী মাত্র এক প্যাকেট শুকনো খাবার কিংবা এক বোতল বিশুদ্ধ পানিও এই মুহূর্তে একজন বন্যার্ত মানুষের জন্য জীবন বাঁচানোর মতো বড় সহায়তা হতে পারে।” সেই সাথে তিনি সবাইকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার এবং একে অপরকে সহযোগিতা করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান।
|