দীঘিনালায় ইউপিডিএফ সদস্যকে গুলি করে হত্যা
রুপম চাকমা, দীঘিনালা: খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া ইউনিয়নের মুরাঘোরা এলাকায় সুজন চাকমা (২৭) নামে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসীত) গ্রুপের একজন সক্রিয় কর্মী বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আজ বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ওই স্থান থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সুজন চাকমা দীঘিনালা উপজেলার ৩ নম্বর কবাখালী ইউনিয়নের তারাবনিয়া এলাকার বিন্দু মোহন চাকমার ছেলে।
ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রতিপক্ষ জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) একটি সশস্ত্র গ্রুপ সুজন চাকমাকে গুলি করে হত্যা করেছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে জেএসএস সন্তু লারমা দলের স্থানীয় কোনো নেতার বক্তব্য বা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাহাড়ের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত বাবুছড়ার দুর্গম মুরাঘোরা এলাকায় পৌঁছায়। সেখান থেকে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওসি আরও বলেন, “হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এই ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাবুছড়া ও কবাখালী এলাকার স্থানীয় জুম্ম জনগণের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদারসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এআইএল/সকালবেলা
|