মণিরামপুরে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা
আব্দুল্লাহ আল মামুন, যশোর: যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক সনাতনী নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সৈকত বিশ্বাস নামে সাবেক এক বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়দের মারধরের শিকার হয়ে বর্তমানে গা ঢাকা দিয়েছেন ওই অভিযুক্ত। এদিকে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল ও সুদে কারবারি মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে।
গত মঙ্গলবার (২ জুন) উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের কুলটিয়া বাজার মোড়ে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা নারী প্রেমা বিশ্বাস ফুলকীর (১৮) স্বামী অভিজিৎ বিশ্বাস কাজের সুবাদে স্থানীয় একটি মাছের ঘেরে ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ি নির্জন থাকার সুযোগে আত্মীয়তার সুবাদে ঘরে প্রবেশ করেন গোপালগঞ্জ জেলার বাসিন্দা ও সাবেক বিজিবি সদস্য সৈকত বিশ্বাস। তিনি ওই অন্তঃসত্ত্বা নারীর পাশে বসে প্রথমে বিভিন্ন অশ্লীল কথাবার্তা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে ওই নারীর পরিহিত পোশাক আলগা করার চেষ্টা করে শরীরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে ভুক্তভোগী চিৎকার শুরু করেন। তাঁর চিৎকারে স্থানীয় প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত সৈকত দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত এক ভিডিওতে ঘটনার এই বিবরণ নিশ্চিত করেছেন ভুক্তভোগী নারীর মামী।
মঙ্গলবার রাতেই অভিযুক্ত লম্পট সৈকতকে ধরে ভুক্তভোগীর স্বামী ও স্থানীয়রা গণপিটুনি দেয়। সৈকতকে মারধর করার সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (সোশ্যাল মিডিয়া) মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এর পরেই ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মাঠে নামে অভিযুক্তের স্ত্রী (যিনি পেশায় একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা) এবং কুলটিয়া ইউনিয়নের নামকরা সুদে কারবারি প্রদীপ বিশ্বাস। অভিযোগ উঠেছে, তারা স্থানীয় বিএনপির ইউনিয়ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতা ও সংবাদকর্মীদের সাথে মোটা অঙ্কের অর্থের লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি রফাদফা করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
তবে লোকলজ্জার ভয় ও প্রভাবশালী মহলের অব্যাহত চাপের কারণে অসুস্থ ওই অন্তঃসত্ত্বা নারী সাংবাদিক কিংবা থানা পুলিশের সামনে আসতে রাজি হননি। স্থানীয় গণমাধ্যম ‘দৈনিক যশোর বার্তা’র মণিরামপুর প্রতিনিধিসহ কয়েকজন সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত সৈকত মণ্ডল, তাঁর স্ত্রী, বাড়ির মালিক বল্টু বিশ্বাস এবং ধামাচাপার সহযোগী প্রদীপ বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্টরা বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।
খবর পেয়ে সাংবাদিকদের সাথে মণিরামপুর থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় প্রভাবশালী মহলটি ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে একটি স্থানীয় সালিশ-বৈঠকের আয়োজন করলেও পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতির কারণে তা পণ্ড হয়ে যায়। বর্তমানে পুরো কুলটিয়া মোড় এলাকায় এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী নারীর দিনমজুর স্বামী অভিজিৎ বিশ্বাস অসহায়ত্ব প্রকাশ করে জানান, “আমি গরীব মানুষ, আমার বাড়িতে স্ত্রীর ঔষধ কেনার টাকা পর্যন্ত নাই, আমি কোনো ঝামেলা চাই না!”
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.: আবু সাঈদ জানান, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে থানা পুলিশের টিম কাজ করছে। তবে এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত মণিরামপুর থানায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
এআইএল/সকালবেলা