জামালপুরে নায়েব আলী হত্যার রহস্য উন্মোচন, গ্রেপ্তার ৬
ডা. আজাদ খান (স্টাফ রিপোর্টার): জামালপুরের ইসলামপুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক নায়েব আলী হত্যাকাণ্ডের ক্লু-লেস রহস্য মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত, নিহতের মুঠোফোন এবং ছিনতাইকৃত অটোরিকশার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ।
আজ বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে জামালপুর পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) ইসলামপুর উপজেলার বেনুয়ারচর এলাকার একটি নির্জন স্থান থেকে একটি ট্রাভেল লাগেজের ভেতর থেকে অটোরিকশা চালক নায়েব আলীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে ছায়া তদন্তে নামে পিবিআই। পরবর্তীতে উন্নত তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল হোতা নাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই সে হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করে।
মূল অভিযুক্ত নাহিদুল ইসলামের বাড়ি জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার চাকদহ গ্রামে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মেলান্দহ ও ইসলামপুরের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ও চোরাই রিকশা কেনাবেচার সাথে যুক্ত আরও ৫ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— সোলাইমান কবির, শফিকুল ইসলাম, আব্দুল কাদের, রাসেল হোসেন ও সাগর পাশা।
পিবিআই জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক নাহিদুল স্বীকার করেছে যে মূলত অটোরিকশাটি ছিনতাই করে চড়া দামে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে সহযোগীদের নিয়ে সে এই খুনের পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন চালক নায়েব আলীকে কৌশলে নির্জন স্থানে নিয়ে জিআই তার দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে চুরির ঘটনা আড়াল করতে লাশটি একটি বড় লাগেজে ভরে বেনুয়ারচর এলাকায় ফেলে রেখে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
অভিযানে খুনের কাজে ব্যবহৃত জিআই তার, নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং চোরাই অটোরিকশাটি কেটে টুকরো করা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে প্রধান আসামি নাহিদুল ইসলাম আজ বিকেলে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
জামালপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, “কোনো রকম ক্লু না থাকা সত্ত্বেও মামলা দায়েরের মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই আমরা মূল আসামিদের চিহ্নিত করে লুণ্ঠিত মালামালসহ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে আমাদের তদন্ত কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রয়েছে।”
এআইএল/সকালবেলা
|