পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন প্লাস্টিক বর্জ্যমুক্ত করলো UNIDO ও বিডি ক্লিন
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্লাস্টিক দূষণ কমানো, বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা নিয়ে উত্তরের জেলা পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনে একটি বৃহৎ পরিসরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (UNIDO) এবং দেশের অন্যতম শীর্ষ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিডি ক্লিন’-এর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে বিডি ক্লিন পঞ্চগড়ের শতাধিক নিবেদিতপ্রাণ সদস্যসহ স্থানীয় তিন শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। দিনব্যাপী চলা এই ঝটিকা অভিযানে স্টেশন এলাকা ও এর আশপাশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৪ দশমিক ৫ টন (সাড়ে চার টন) একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি স্টেশন চত্বরে প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব এবং যত্রতত্র ময়লা ফেলা রোধে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জানা গেছে, ‘Integrated Approach Towards Sustainable Plastics Use and Marine Litter Prevention in Bangladesh’ শীর্ষক বিশেষ প্রকল্পের আওতায় এই কর্মসূচিটির আয়োজন করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রত্যক্ষ বাস্তবায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে আন্তর্জাতিক সংস্থা UNIDO এবং সার্বিক আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে ঢাকাস্থ রয়্যাল নরওয়েজিয়ান দূতাবাস।
পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম স্থান। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হওয়ায় এখানে প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্যের পরিমাণও বেশি থাকে। স্টেশন ও এর আশপাশের পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি এই প্লাস্টিক বর্জ্য যাতে কোনোভাবেই আশপাশের জনবসতি, উন্মুক্ত জলাধার ও প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ে মারাত্মক ক্ষতি করতে না পারে, সেই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে প্রধান অতিথি ও সমন্বয়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিডি ক্লিন রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়ক মো. নাজমুল হক। এ সময় বিডি ক্লিন পঞ্চগড়ের শতাধিক সদস্য অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পুরো স্টেশন চত্বর পরিষ্কার করেন।
আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান এ ধরনের জনসচেতনতামূলক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মানসিকতা গড়ে উঠবে এবং মানুষ পরিবেশবান্ধব আচরণে আরও বেশি উৎসাহিত হবে।