মৌলভীবাজারে সবুজের বুকে হলুদের সমারোহ: সূর্যমুখী চাষে স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

মৌলভীবাজারে সবুজের বুকে হলুদের সমারোহ: সূর্যমুখী চাষে স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

তিমির বণিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সবুজের মাঝে হলুদের ঝিলিক। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন সূর্যের এক টুকরো আভা নেমে এসেছে জমিনে। মৌলভীবাজার জেলা সদর, বড়লেখা, জুড়ী ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার গ্রামগুলোতে সারি সারি সূর্যমুখী ফুল ফুটে আকাশপানে তাকিয়ে আছে। কম খরচে ভালো লাভের আশায় স্থানীয় কৃষকরা এখন এই তেলফসল চাষে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আকবরপুর এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে সূর্যমুখীর হলুদ ফুলের সমারোহ। একই চিত্র শ্রীমঙ্গলের আশিদ্রোন ইউনিয়নের লাহারপুর ও ভূনবীর ইউনিয়নের পশ্চিম লইয়ারকুল এলাকায়।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি প্রণোদনায় বীজ ও সার পাওয়ায় চাষাবাদে খরচ যেমন কমেছে, তেমনি লাভের স্বপ্নও দেখছেন তারা। লাহারপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম ওরফে মিন্টু মিয়া বলেন, ‘এবার ১৫ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। কৃষি অফিস থেকে বীজ-সার সহায়তা পেয়েছি। এখন পর্যন্ত সাত হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। আশা করছি ফলন ভালো হবে।’ একই প্রত্যাশা ভূনবীর ইউনিয়নের কৃষক মো. খলিল মিয়ার, যিনি সাত শতক জমিতে সূর্যমুখী আবাদ করেছেন।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ১৪৭ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে, যার বেশিরভাগই হাওরাঞ্চলে। বিশেষ করে 'বারি-৩' জাতের সূর্যমুখী চাষের দিকে ঝোঁক বেশি, কারণ এই জাতের গাছ তুলনামূলক খাটো ও শক্ত কাণ্ডের হওয়ায় ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকে। প্রতি বিঘায় প্রায় ছয় থেকে সাড়ে ছয় মণ বীজ পাওয়ার আশা করছে কৃষি বিভাগ।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুকুর রহমান জানান, কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়ায় চাষাবাদে আগ্রহ বেড়েছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, ‘প্রণোদনা কর্মসূচির ফলে পতিত জমিও চাষাবাদের আওতায় এসেছে। সূর্যমুখী চাষ কৃষকদের বাড়তি আয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যমুখীর তেল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং হৃদরোগের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত। তাই জাতীয় স্বার্থে ও প্রান্তিক কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে এই ফসলের চাষ বড় ধরণের সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন