ফেনীতে অটোরিকশাচালককে কুপিয়ে হত্যা করে গাড়ি ছিনতাই
এম. জহিরুল হক মিলন, ফেনী: ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় যাত্রীবেশে উঠে এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালককে এলোপাতাড়ি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার পর তাঁর চালিত বাহনটি ছিনতাই করে নিয়ে গেছে একদল দুর্বৃত্ত।
গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের বাংলা বাজারের পাশের নির্জন সড়কে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর করুণ মৃত্যু হয়।
নিহত অটোরিকশাচালকের নাম আবদুল হক (৪৫)। তিনি ছাগলনাইয়া উপজেলার মাটিয়াগোদা গ্রামের মৃত ওসমান হাওলাদারের ছেলে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের চাঁদগাজী বাজার এলাকা থেকে ৩-৪ জনের একদল দুর্বৃত্ত সাধারণ যাত্রী সেজে পাঠাননগর বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি ভাড়া করে। অটোরিকশাটি বাংলা বাজারের কাছে একটি নির্জন সড়কে পৌঁছানো মাত্রই ওত পেতে থাকা ছিনতাইকারীরা বাহনটি থামিয়ে ড্রাইভার আবদুল হককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও জখম করে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে রেখে অটোরিকশাটি নিয়ে দ্রুত চম্পট দেয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ছাগলনাইয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, ঘটনার সময় কয়েকজন পথচারী রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় আবদুল হককে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে তৎক্ষণাৎ থানায় খবর দেন। সংবাদ পেয়ে ছাগলনাইয়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জেকসন বড়ুয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসকেরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। চমেক হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় আজ ভোর ৬টার দিকে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।
ওসি আরও জানান, “নিহতের মাথা, বুক ও শরীরের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে ধারালো অস্ত্রের একাধিক গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রীবেশে ওঠাই দুষ্কৃতকারীরাই এই ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে এবং ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধারে ইতিমধ্যেই পুলিশের একাধিক দল মাঠে নেমেছে।”
এ ঘটনায় তীব্র শোক প্রকাশ করে মহামায়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল কাইয়ুম মেম্বার জানান, পরিবারে একাকী টানাপোড়েন মেটাতে মাত্র কয়েক মাস আগে এনজিওর কিস্তির টাকায় একটি নতুন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কিনেছিলেন খেটে খাওয়া আবদুল হক। সেই অটোরিকশাটি চালিয়ে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে কষ্টেসৃষ্টে সংসার চালাতেন।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অভিভাবককে হারিয়ে বর্তমানে অনাথ দুই সন্তান ও স্ত্রীর ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে ঘাতকদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানিয়েছেন।