স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এখনো ভালো লক্ষণ দেখছি না: জামায়াত আমির

প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১১ অপরাহ্ণ
স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এখনো ভালো লক্ষণ দেখছি না: জামায়াত আমির
মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসের মুন হল রুমে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট : আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে গভীর সংশয় ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো ভালো লক্ষণ দেখছি না। নির্বাচন কমিশনের মতো নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানে বিএনপির একজন বিতর্কিত অবসরপ্রাপ্ত ক্যাডারকে এডিশনাল সেক্রেটারি হিসেবে বসানো হয়েছে। একটি নিরপেক্ষ সংস্থায় কেন একজন বিশেষ দলীয় লোককে আনতে হবে?”

আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে মৌলভীবাজারের সার্কিট হাউসের মুন হল রুমে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

সংসদের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতাদের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, “জাতীয় সংসদের চিফ হুইফ, যাঁর মূল দায়িত্ব হচ্ছে জাতীয় সংসদের ভেতরের শৃঙ্খলা রক্ষা করা; তিনি সম্প্রতি নিজের নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন—যেসব জায়গায় বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হবে না, সেখানে কোনো উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হবে না। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও লজ্জার বিষয়। এর সোজা অর্থ হলো, ভোটের আগেই জনগণকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।”

জামায়াত আমির স্পষ্ট করে জানান, “এ ধরনের দলভীতি ও চরম হুমকিসূচক পরিবেশের মধ্যে ভোট গ্রহণ হলে সেখানে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার ন্যূনতম সম্ভাবনা থাকে না। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত তারিখের আগেই আমরা রাজপথ ও পরিবেশ পরিষ্কার করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমরা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের দৃশ্যমান নিশ্চয়তা চাইব। যখন সেই নিরপেক্ষতার নিশ্চয়তা পাব, কেবল তখনই নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণ করব। জামায়াতে ইসলামী কারও বলির পাঁঠা (স্কিপার গুড/স্কেপগোট) হতে চায় না। আমরা জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে লড়ছি এবং আমরা চাই জনগণ যাকে ভোট দেবে, সেই সরকার গঠন করবে।”

দেশের বর্তমান সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “আমরা সৌভাগ্যক্রমে এমন একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পেয়েছি যিনি নিজের মূল দপ্তর বাদ দিয়ে দেশের সকল মন্ত্রণালয়ে বক্তব্য ও উপদেশ দিয়ে বেড়ান। অথচ তাঁর প্রাইম ডিউটি হচ্ছে নিজ মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা তদারকি করা। তিনি না পারলেন দেশে ছড়িয়ে পড়া অবৈধ অস্ত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে, আর না পারলেন সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে। কোথাও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্তারা নিয়মিত বলে যাচ্ছেন—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো। এই 'আগের চেয়ে ভালো'র গাণিতিক মাপকাঠি কী, তা আজও দেশের মানুষের কাছে স্পষ্ট নয়।”

স্বাধীন গণমাধ্যমের ইতিহাস ও গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “সংবাদপত্র হলো সমাজের দর্পণ বা আয়না। তাদের এই নিরপেক্ষ আয়নাতেই সমাজ ও রাষ্ট্রের সমস্ত দোষ-ত্রুটি ফুটে ওঠে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭৫ সালে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় প্রথম বড় আঘাত হানা হয়েছিল। সে সময় বহুদলীয় গণতন্ত্রকে রাতারাতি হত্যা করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করা হয়। মাত্র চারটি সরকারি পত্রিকা বাদে দেশের সমস্ত স্বাধীন সংবাদপত্রকে বন্ধ করে দিয়ে সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল।”

মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলীর সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদ।

এর আগে সকালে ডা. শফিকুর রহমান মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজে এসে পৌঁছালে জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতারা তাঁকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানান। পরে জেলা পুলিশের একটি চৌকস ও সুসজ্জিত দল জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতাকে সালাম ও গার্ড অব অনার প্রদান করে।