কিশোরগঞ্জে বেপরোয়া মাদক সিন্ডিকেট: জামিনে বের হয়ে বারবার ফিরছে অপরাধে
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের আনাচে-কানাচে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে মাদক ব্যবসা। প্রতিনিয়ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হলেও, আইনের ফাঁকফোকর ও রাজনৈতিক গডফাদারদের ছত্রছায়ায় দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও একই অপরাধে জড়াচ্ছে চিহ্নিত মাদক কারবারিরা। স্থানীয় এলাকাগুলোতে এখন এই সিন্ডিকেটগুলো "মাদক সম্রাট" হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম এখন মাদকের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান অভিযুক্তরা হলেন— যশোদলের দানপাটলি গ্রামের বাসিন্দা জোসনা বেগম ও জাবেদ মিয়া দম্পতি, যাঁরা এলাকায় একটি বড় মাদক চক্র পরিচালনা করছেন।
এছাড়া ভাবোন্দিয়া যশোদল এলাকার মৃত শাহ আজিজের ছেলে শাহ নজরুল এবং তাঁর সহযোগী সোহেল এই সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। মধ্যপাড়া যশোদল এলাকার মৃত শহিদুল্লাহর ছেলে ওবায়দুল্লাহর বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক মাদকের মামলা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওবায়দুল্লাহ এর আগে বেশ কয়েকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হলেও তাঁকে দীর্ঘদিন আটকে রাখা যায়নি। অন্যদিকে, বীর দামপাড়া এলাকার নিজাম উদ্দিনের ছেলে সাইফুল এই অঞ্চলের মাদক সরবরাহের অন্যতম প্রধান লাইনম্যান হিসেবে পরিচিত।
এদিকে মনিপুরঘাট এলাকায় মাদক ব্যবসার একক নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে দুই মাদক কারবারি জহির ও আলম। তাদের নেটওয়ার্ক এতটাই শক্তিশালী যে স্থানীয়ভাবে তারা "মাদক সম্রাট" হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে এই সিন্ডিকেটগুলো অভিনব সব পন্থা অবলম্বন করছে। মাদক বহনের জন্য তারা সাধারণ কোনো মাধ্যম ব্যবহার না করে নিজস্ব দামি গাড়ি ব্যবহার করছে। তল্লাশি এড়াতে তারা অ্যাম্বুলেন্স, হাইয়েস এবং নোহার মতো মাইক্রোবাস ব্যবহার করে নির্বিঘ্নে মাদকের বড় বড় চালান এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে দিচ্ছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো এই মাদক চক্রের পেছনে থাকা রাজনৈতিক প্রভাব। সূত্র জানায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথে এই মাদক কারবারিরাও তাদের খোলস ও আশ্রয়দাতা বদলে ফেলে।
আগে এই সিন্ডিকেটকে সরাসরি শেল্টার দিতো স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কিছু নেতাকর্মী। তবে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর, এখন তারা খোলস বদলে বর্তমান রাজনৈতিক দল বিএনপির কিছু 'গডফাদারের' পকেটে ঢুকে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কারবারি গ্রেপ্তার হলেই এই গডফাদাররা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পেছন থেকে তদবির করে দ্রুত তাদের জামিনের ব্যবস্থা করে দেয়। ফলে কারাগার থেকে বের হয়ে তারা আরও দ্বিগুণ উৎসাহে মাদক ব্যবসা শুরু করে।
এই মাদক সিন্ডিকেটের কারণে কিশোরগঞ্জের তরুণ সমাজ ও যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে। এলাকার সচেতন নাগরিকরা অনতিবিলম্বে এই গডফাদার ও মাদক সম্রাটদের চিহ্নিত করে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও কঠোর আইনি অভিযানের দাবি জানিয়েছেন।
এআইএল/সকালবেলা
|