জাতীয় উপকূল সম্মেলনের ২৭ দফা বাস্তবায়নে আশাবাদী উপকূলবাসী

জাতীয় উপকূল সম্মেলনের ২৭ দফা বাস্তবায়নে আশাবাদী উপকূলবাসী

মো. কারিমুল ইসলাম, মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: প্রতিনিয়ত দুর্যোগ ও ঝুঁকির মুখে থাকা উপকূলীয় জনপদ এখন এক নতুন আশার আলো দেখছে। দেশের ১৯টি জেলার প্রায় ৪ কোটি ৩৫ লাখ উপকূলবাসী দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে ‘জাতীয় উপকূল সম্মেলন ২০২৫’-এ গৃহীত ‘জাতীয় উপকূল ঘোষণা ২০২৫’ এবং ২৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন।

গত বছর ১৩-১৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় উপকূল সম্মেলন ২০২৫-এ উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, স্থানীয় অভিযোজন উদ্যোগ এবং সমাজভিত্তিক সমাধান নথিভুক্ত করা হয়। সম্মেলনটি উপকূলীয় ব্যবস্থাপনার সংস্কারের বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করে। সেই আলোচনার আলোকে একটি ন্যায্য, সহনশীল ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের দিকনির্দেশনা হিসেবে ‘জাতীয় উপকূল ঘোষণা ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়।

উপকূলীয় বাসিন্দাদের মতে, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, উন্নয়ন উদ্যোগে সমন্বয়হীনতা, টেকসই উদ্যোগের অভাব এবং দুর্বল শাসন ব্যবস্থার কারণে তারা প্রতিনিয়ত বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে উপকূলীয় ব্যবস্থাপনার আমূল সংস্কার এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিজেই যেহেতু উপকূলের সন্তান, তাই তার কাছে উপকূলবাসীর প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, প্রতিমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই ২৭ দফা বাস্তবায়িত হলে উপকূল প্রান্তের মানুষের জীবন আরও নিরাপদ ও সহজ হবে—যার স্লোগান হবে, “বাঁচবে মানুষ, বাঁচবে প্রকৃতি”।

জাতীয় উপকূল সম্মেলন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বহুপক্ষীয় এবং নীতিনির্ধারণমুখী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। সম্মেলনে উপকূল পরিকল্পনা, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু অভিযোজন এবং পানি ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহলের মতে, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর বাস্তব চর্চা ও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের মধ্যে একটি প্রমাণভিত্তিক সংযোগ স্থাপন করা জরুরি। ভবিষ্যতে আইন প্রণয়ন, জাতীয় বাজেট বরাদ্দ, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে এই সংযোগটি একটি কার্যকর রেফারেন্স কাঠামো হিসেবে কাজ করতে পারে। তাই টেকসই উপকূল গড়তে জাতীয় উপকূল সম্মেলনের এই বাস্তব রূপরেখা বা ২৭ দফা দ্রুত বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন