মণিরামপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, কঠোর পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫০ অপরাহ্ণ
মণিরামপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, কঠোর পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর

আব্দুল্লাহ আল মামুন, যশোর: দিন যতই যাচ্ছে যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, হামলা, হুমকি, ধর্ষণ ও মাদকের মতো অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে ১৭টি ইউনিয়ন ও এক পৌরসভা জুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এমনকি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কাজে গিয়ে এক সাংবাদিককে হত্যার হুমকি স্বরূপ বাসার গেটে ‘কাফনের কাপড়’ রেখে আসার মতো ঘটনা ঘটেছে।

জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসের চিত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ৩টি পুলিশ ক্যাম্প ও থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে স্থানীয় সচেতন মহল। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ের কার্যক্রম নিয়েও জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চুরি-ডাকাতি থেকে রক্ষা পেতে বর্তমানে অনেক এলাকার বাসিন্দা রাতে পাহারা দিচ্ছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত তিন মাসে উপজেলায় অন্তত অর্ধশত চুরি ও অন্যান্য অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দেওয়া সত্ত্বেও থানা পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার ভোজগাতী ইউনিয়নের এনামুল নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে এক মাসে দুইবার চুরি হলেও পুলিশ তদন্তে যায়নি। জামতলা মোড়ে দোকান চুরি এবং বেগারীতলা বাজারে গ্রিলের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, আগে এসব এলাকায় নিয়মিত টহল পুলিশ দেখা গেলেও এখন তা বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে অবৈধ দখল ও প্রভাবশালী কর্তৃক ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখলের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিনকে জানালেও কার্যকর কোনো সুফল পাননি ভুক্তভোগীরা। ঢাকুরিয়া বাজারে বাওড়ের ওপর অবৈধ মার্কেট নির্মাণ এবং ঘেরের কারণে সরকারি সড়কের ক্ষতি হলেও কোনো দৃশ্যমান অভিযান দেখা যায়নি। এছাড়া ২৪ আগস্ট দুপুরে ইউএনও অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও সেবা না পেয়ে এক নারীর ফিরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

পৌর এলাকার তাহেরপুর, জুড়ানপুর, বিজয়রামপুর, দুর্গাপুর ও কামালপুর গ্রামে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি সহকারী পুলিশ সুপারের (সার্কেল এএসপি) কার্যালয়ের সামনের এক বাড়ি থেকে দুইটি গরু চুরি করে প্রধান সড়কে থাকা গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় চোরের দল। সিসিটিভি ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও চোর শনাক্ত বা গরু উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। একইভাবে দিনমজুরের ভ্যান চুরির ঘটনাতেও কোনো আইনি সহযোগিতা মেলেনি।

সার্বিক চুরির বিষয়ে মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু সাঈদ জানান, তাঁরা এসব বিষয়ে কাজ করছেন এবং গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে; তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি মো. সম্রাট হোসেন জানান, সভায় সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ তারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও জনস্বার্থে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন।

এআইএল/সকালবেলা


মন্তব্য করুন