কালকিনিতে বোরকা পরে হামলা, পাল্টা হামলায় হামলাকারী নিহত

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫২ অপরাহ্ণ
কালকিনিতে বোরকা পরে হামলা, পাল্টা হামলায় হামলাকারী নিহত

কালকিনি, ডাসার (মাদারীপুর) প্রতিনিধি: মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলাধীন কালিগঞ্জ বাজারে বোরকা ও হিজাব পরে এসে অতর্কিত হামলা চালাতে গিয়ে জনতার গণপিটুনিতে তাইজুল সরদার (২৬) নামে এক দুষ্কৃতকারী নিহত হয়েছে। 

আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হানিফের চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনায় হামলায় গুরুতর আহত দুই ভাই মহসিন ও জহির ও আজিম চৌধুরীকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে কালিগঞ্জ বাজারের হানিফের চায়ের দোকানে মিলন চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন মহসিন ও তার ভাই জহিরসহ স্থানীয়রা। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একটি ইজিবাইকে (অটো) করে কালো রঙের বোরকা ও গোলাপি হিজাব পরা চারজন দুষ্কৃতকারী চায়ের দোকানের সামনে এসে থামে।

দুজন বাইরে পাহারা দেওয়ার জন্য দাঁড়ায় এবং বাকি দুজন দোকানে ঢুকে মহসিনকে কলার ধরে টেনে বাইরে নিয়ে আসে। এরপরই সঙ্গে আনা রামদা (সেনদা) দিয়ে মহসিনকে কোপাতে শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে মহসিন হামলাকারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করেন এবং রামদাটি ছিনিয়ে নেন। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে হামলাকারীর ছদ্মবেশ খুলে গেলে তাকে স্থানীয় তাইজুল সরদার হিসেবে শনাক্ত করা যায়।

এদিকে বাইরে থাকা অন্য আসামিরা মহসিনের ভাই জহিরের ওপরও হামলা চালায়। তবে মহসিন গুরুতর আহত হলেও জহির সামান্য আহত হন। এক পর্যায়ে তাইজুল সেখান থেকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে বাজারের ক্ষুব্ধ লোকজন ও মহসিন তাকে ধাওয়া করেন। এ সময় তাইজুল প্রাণ বাঁচাতে সঙ্গে থাকা ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করে। তবে চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেলা জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়।

সংবাদ পেয়ে কালকিনি থানার পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় তাইজুলকে উদ্ধার করে প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পরে সাংবাদিকদের জানান, "প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক/গ্রুপগত অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটেছে। নিহত ও আহতদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আগের একাধিক মামলা রয়েছে।"

তিনি আরও জানান, "ঘটনার সময় দোকানে প্রায় ১২ জনের মতো লোক উপস্থিত ছিলেন। আমরা অনেকের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছি এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। ঘটনায় অভিযুক্ত অন্য তিনজন—সাইফুল, আলামিন ও অপর এক অজ্ঞাতনামা আসামিকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।"

এআইএল/সকালবেলা