ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
তানভীরুল ইসলাম, মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: রাজধানীর রায়েরবাগে সেহরি রান্নার সময় গ্যাসের চুলা জ্বালাতে গিয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের স্কুলশিক্ষিকা সনিয়া আক্তার পিংকি (৩০) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্বামী, তিন বছর বয়সী সন্তান ও ছোট ভাইসহ তিনজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ঢাকার রায়েরবাগ এলাকায়। নিহত সনিয়া আক্তার পিংকি মোহনগঞ্জের মামুদপুর গ্রামের শাহজাহান মিয়ার মেয়ে এবং পার্শ্ববর্তী খালিয়াজুরির বোয়ালি এলাকার রোমান শেখের স্ত্রী। তিনি মামুদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
দগ্ধরা হলেন—পিংকির স্বামী রোমান শেখ (৩৭), ছেলে মায়ান (৩) ও ছোট ভাই রিয়াদ হাসান অপু (১৯)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পিংকির স্বামী রোমান শেখ ঢাকায় চাকরি করেন। রমজান শুরু হওয়ার পর স্কুল বন্ধ থাকায় পিংকি তার ভাই রিয়াদ ও সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় স্বামীর বাসায় বেড়াতে যান। বৃহস্পতিবার ভোরে সেহরি রান্নার জন্য পিংকি গ্যাসের চুলা জ্বালাতে গেলে বিস্ফোরণ ঘটে। আগে থেকেই লাইনে লিকেজ থাকায় পুরো ঘরে গ্যাস ছড়িয়ে ছিল। দিয়াশলাই জ্বালাতেই পুরো ঘরে আগুন ধরে যায়। এতে ঘরে থাকা সবাই দগ্ধ হন। প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক পিংকিকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শিক্ষিকার জানাজা শেষে শুক্রবার বিকেলে মোহনগঞ্জের মামুদপুরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
মোহনগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, “সনিয়া একজন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষিকা ছিলেন। তার এমন অকাল মৃত্যু আমাদের জন্য অত্যন্ত শোকাবহ।”
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম বলেন, “বাসার গ্যাসের লাইন লিকেজ হয়ে পুরো কক্ষ গ্যাসে পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় গ্যাস বের হতে পারেনি। চুলায় আগুন ধরানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো ঘরে আগুন জ্বলে ওঠে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
বর্তমানে দগ্ধ স্বামী, সন্তান ও ভাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ