কিশোরগঞ্জে জামায়াতের রুকন সম্মেলনে ব্যালটে আমীর নির্বাচন

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৩ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জামায়াতের রুকন সম্মেলনে ব্যালটে আমীর নির্বাচন

নূর আহাম্মদ পলাশ (কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি): কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর রুকন সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নেহাল গ্রীন পার্কের মিলনায়তনে আয়োজিত এ সম্মেলনে আগামী দুই সেশনের জন্য জেলা আমীর নির্বাচনে গোপন ব্যালটে ভোট দেন আট শতাধিক পুরুষ ও নারী রুকন।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মো. রমজান আলী। পরিচালনা করেন জেলা সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য কর্নেল (অব.) ডা. জেহাদ খান, জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা অধ্যক্ষ মো. তৈয়বুজ্জামান ও অধ্যাপক আব্দুস সালাম, জেলা নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আজিজুল হকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। এ ছাড়া বিভিন্ন উপজেলা ও সাংগঠনিক থানা শাখার দায়িত্বশীল এবং রুকনরা সম্মেলনে অংশ নেন।

সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর আগে অধ্যাপক মো. রমজান আলী দলীয় নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালকদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এরপর তিনি সভাপতির আসন ছেড়ে সাধারণ রুকনদের সারিতে বসেন। ভোটগ্রহণ শেষে তাৎক্ষণিকভাবে ফল ঘোষণা করা হয়নি। কেন্দ্র থেকে পরবর্তী সময়ে ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়।

নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কাজী সাইফুল্লাহ। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি শামসুল আলম সেলিম ও মাওলানা এস এম ইউসূফ।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না। তাঁর দাবি, গত ১৭ বছরে জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে বেশি জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর একটি বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জামায়াত জুলাই সনদে বিশ্বাস করে না, এমন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। মতিউর রহমান আকন্দ আরও দাবি করেন, বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও এরশাদের শাসনামলে বিভিন্ন সময়ে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ১৯৯৬ সালের প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের কোনো জোট হয়নি; বরং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে দুই দল একসঙ্গে আন্দোলন করেছিল।

তিনি আরও বলেন, জনগণ প্রতারণার জবাব দেবে। জামায়াতে ইসলামী সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে বিএনপির চেয়ে ‘৫০ গুণ ভালোভাবে’ দেশ পরিচালনা করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আগামী দিনে জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই নেতা।

এআইএল/সকালবেলা