ঝিনাইদহে ছাত্রদলের পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ ও সমাবেশ

প্রকাশ: শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৯:২১ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে ছাত্রদলের পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ ও সমাবেশ

মো. বাপ্পি শেখ, ঝিনাইদহ: কেন্দ্র ঘোষিত ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত আংশিক কমিটি প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে পদবঞ্চিত ও ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। 

শনিবার (১৬ মে) বিকালে শহরের ওয়াজির আলী হাইস্কুল মাঠ থেকে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। এ সময় সমাবেশে বক্তারা স্বজনপ্রীতি ও পকেট কমিটির অভিযোগ তুলে অবিলম্বে নতুন কমিটি পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানান।

শনিবার বিকালে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের একটি বিশাল মিছিল শহরের ওয়াজির আলী হাইস্কুল মাঠ থেকে বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নেতাকর্মীরা ‘আপোষ না সংগ্রাম—সংগ্রাম, সংগ্রাম’, ‘অবৈধ কমিটি মানি না—মানব না’ ইত্যাদি স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করে তোলেন। পরে মিছিলটি শহরের পায়রা চত্বরে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

জানা যায়, ক্ষুব্ধ নেতারা সদ্য ঘোষিত কমিটি প্রকাশের পরদিনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের পদত্যাগের ঘোষণা দেন। শনিবারের বিক্ষোভ সমাবেশে প্রকাশ্যেই তিন নেতা তাঁদের পদত্যাগপত্র প্রদর্শন করে কেন্দ্র ঘোষিত কমিটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। ছাত্রদল নেতা বখতিয়ার মাহমুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, “যাদেরকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে, তাদের সিভি আর আমাদের সিভি মিলিয়ে দেখুন। রাজপথের ত্যাগ ও দলীয় প্রোগ্রামে আমাদের অবদান যাচাই করুন। এটি সম্পূর্ণ একটি ‘পকেট কমিটি’। ঝিনাইদহের আপামর সাধারণ ছাত্র-জনতা এই কমিটি দেখে চরমভাবে হতাশ হয়েছে।”

সমাবেশে সদ্য ঘোষিত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান শাহেদ বলেন, “দীর্ঘদিন আমরা বিগত সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করেছি। অসংখ্যবার হামলা, মামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। আজ দলের দুর্দিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। ষড়যন্ত্র, স্বজনপ্রীতি ও অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমেই ছাত্রদলের এই কমিটি দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা দেশনায়ক তারেক রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী। যে কারণে আমরা কোনো বিশৃঙ্খলার পথে হাঁটিনি। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখেই আমরা গঠনমূলকভাবে এই অবৈধ কমিটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছি।” সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার মাহমুদ, আব্দুস সালাম, কেসি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শিপন মাহমুদ ও হিমেল আহম্মেদ প্রমুখ।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন