সমবায়ীদের পণ্য রপ্তানিতে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশ: শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ণ
সমবায়ীদের পণ্য রপ্তানিতে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক  ঃ দেশের সমবায় আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে সমবায় সমিতির সংখ্যা অন্ধের মতো বৃদ্ধির পরিবর্তে বিদ্যমান সমিতিগুলোর গুণগত মান, পেশাগত দক্ষতা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি বলেন, “সমবায়ীদের উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যকে আধুনিকায়নের ছোঁয়া দিয়ে দেশীয় চাহিদার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করার জন্য এখন থেকেই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।”

শনিবার (৪ জুলাই) ১০৪তম আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত সমবায় অধিদপ্তরের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের আন্তর্জাতিক সমবায় দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল—‘কোঅপারেটিভ ফর এ্যা পিসফুল ওয়ার্ল্ড’ (একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্বের জন্য সমবায়)।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের মূল কর্মসূচির সূচনা করা হয়। পরে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বেলুন এবং শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি সমবায়ীদের তৈরি হরেক রকম পণ্যের মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী সমবায় অধিদপ্তরের বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন এবং মাঠপর্যায়ের কাজের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন। তিনি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করা এবং যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য স্থানে দায়িত্ব দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে জেলা কার্যালয়গুলোকে আরও কার্যকর করতে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প (ডিপিপি) প্রণয়ন, কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি, পদোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়, কর-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জোরালো নির্দেশনা দেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, তিনি নিজে পর্যায়ক্রমে দেশের উপজেলা পর্যায়ের সমবায় সমিতিগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন এবং মাঠপর্যায়ের যেকোনো বাস্তব সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবেন। সমবায় খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সর্বাত্মক সহযোগিতারও আশ্বাস দেন তিনি।

মীর শাহে আলম বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার দেশের সমবায় খাতকে বিশেষ অর্থনৈতিক গুরুত্ব দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস কেবল একটি রুটিন উদযাপনের উপলক্ষ নয়, বরং এটি সমবায়ের মূল আদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ ও সমাজ বিনির্মাণে এর অবদানকে নতুন করে মূল্যায়নের এক অনন্য সুযোগ। মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা ছাড়া দেশের সামগ্রিক টেকসই উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয় এবং সমবায়ের মাধ্যমেই মানুষের মধ্যে ঐক্য, আত্মনির্ভরশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মূল চেতনা গড়ে ওঠে।”

তিনি আরও যোগ করেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে সমবায় একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে দীর্ঘকাল ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি সমবায় আন্দোলনকে বেগবান করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরও বেশি উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের সভাপতি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, সমবায় অধিদপ্তরের দীর্ঘ পথচলায় গ্রামীণ জনগণের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, প্রান্তিক নারী ক্ষমতায়ন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লড়াইয়ে সমবায় আরও বড় অবদান রাখতে পারে। এই লক্ষ্য পূরণে তিনি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আধুনিক ও ব্যাপক সম্প্রসারণ, সমবায়ীদের জন্য স্বল্পসুদে বিশেষ ঋণ, বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ চালু এবং প্রয়োজনীয় আইনগত সংস্কারের মাধ্যমে সমবায় খাতকে আরও বেশি জনবান্ধব করার আহ্বান জানান।

সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক মো. সেলিম ফকির, এনডিসি-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরী, সমবায় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত নিবন্ধক মো. নবীরুল ইসলাম, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সমবায় অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও সমবায়ীবৃন্দ।

মন্তব্য করুন