দেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়েছে : স্টেফান লিলার

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৩:৫৮ অপরাহ্ণ
দেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়েছে : স্টেফান লিলার
জাতীয় ডেস্ক : জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) দৃষ্টিতে বাংলাদেশের বর্তমান জাতীয় সংসদ আগের চেয়ে অনেক বেশি মুখর ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে এবং এর ফলে দেশের সার্বিক গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও সুসংহত ও শক্তিশালী হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির বাংলাদেশ অফিসের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার। তিনি বর্তমান সরকারের টেকসই উন্নয়ন ও জনমুখী বিভিন্ন পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘জাতীয়’ ও ‘আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী ও ইউএনডিপি প্রতিনিধির মধ্যকার এই উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাতের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরা হলো।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কার্যালয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক ও সৌজন্য সাক্ষাৎকালে স্টেফান লিলার এই গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক মন্তব্য করেন।

উচ্চপর্যায়ের এই বিশেষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএনডিপির মধ্যে চলমান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জন, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফলপ্রসূ মতবিনিময় হয়। এ সময় উভয় পক্ষই বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও বেশি গতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জবাবদিহিমূলক ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন।

সাক্ষাতকালে বিগত সাধারণ নির্বাচনে জনগণের বিপুল ভোটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান স্টেফান লিলার। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে উল্লেখ করেন, “ইউএনডিপির সূচক ও পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের বর্তমান জাতীয় সংসদ আইন প্রণয়ন ও বিতর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রাণবন্ত ভূমিকা পালন করছে। এতে দেশের সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও রাষ্ট্রের মূল ভাবমূর্তি শক্তিশালী হয়েছে।”

বৈঠকে নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গৃহীত বিভিন্ন যুগান্তকারী উদ্যোগের কথা উন্নয়ন সহযোগীদের সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষায় চালু করা দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং আধুনিক কৃষি ও কৃষকদের ভর্তুকি নিশ্চিতকরণে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির সফলতার কথা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এই সব আধুনিক ও ডিজিটাল উদ্যোগের মাধ্যমে তৃণমূল মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সাথে তিনি বাংলাদেশের এই সার্বিক উন্নয়ন ও টেকসই অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে বৈশ্বিক উন্নয়ন সহযোগীদের অব্যাহত ও জোরালো সহযোগিতা ও বিনিয়োগ কামনা করেন।

সাক্ষাৎকার চলাকালীন সময়ে দেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রমবিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা মাহদী আমিন। অন্যদিকে ইউএনডিপির প্রতিনিধি দলে আবাসিক প্রতিনিধির সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনস অ্যান্ড এক্সটার্নাল রিলেশনস স্পেশালিস্ট কীর্তিজাই পাহাড়ি এবং হেড অব গভর্ন্যান্স আনোয়ারুল হক। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে নতুন এক অংশীদারিত্বের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন