হাইব্রিডদের ভিড়ে কোণঠাসা বিএনপির পরীক্ষিতরা
সকালবেলা অনলাইন: দীর্ঘ দেড় যুগ আন্দোলন-সংগ্রাম ও দুঃসহ নির্যাতন ভোগের পর সরকার গঠন করেছে বিএনপি। নেতারা মন্ত্রী-সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুদায়িত্ব পেলেও আন্দোলন-সংগ্রামের মূল কারিগর তৃণমূলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করার অভিযোগ উঠেছে। দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত এই প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে।
সূত্র মতে, সম্প্রতি কিছু নতুন কমিটি গঠিত হলেও সেখানে রাজনীতিতে সক্রিয় ও নির্যাতিতদের বাদ দেওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৭ বছর যারা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের মূল্যায়ন না হওয়ায় দলের ভেতরে একধরনের হতাশা বিরাজ করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর অতীতে আন্দোলনে অনুপস্থিত থাকা সুবিধাবাদী ও নব্য বিএনপি নেতাকর্মীদের ভিড়ে মাঠের কর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। পকেট কমিটি ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এসব বহিরাগতরা দলে ভিড় করে নানান অপতৎপরতা চালাচ্ছেন।
রাজশাহী জেলা ছাত্রদল নেতা আল আমিন বলেন, যারা বিগত সময়ে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিল, তারাই এখন বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করছে। এতে দলের প্রকৃত কর্মীরা চরম বিব্রত।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, দলে হাইব্রিড ও সুবিধাভোগীদের অনুপ্রবেশের অভিযোগ তারা শুনছেন এবং তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান রাখা নেতাকর্মীদেরই দল মূল্যায়ন করবে বলে জানান তিনি।
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, হাইব্রিড নেতাদের বিষয়ে তারা সতর্ক রয়েছেন এবং বর্তমানে দলে যোগদান অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের ৮২টি সাংগঠনিক কমিটির মধ্যে সিংহভাগই মেয়াদোত্তীর্ণ। দ্রুত এসব মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিতে ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের মূল্যায়ন করা না হলে তৃণমূলে অস্থিরতা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এআইএল/সকালবেলা