গ্রামকে উন্নত অর্থনীতি ও শহুরে সুবিধায় রূপান্তরের তাগিদ মির্জা ফখরুলের
রাজনীতি: দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও বেশি গতিশীল ও টেকসই করতে হলে প্রতিটি গ্রামকে উন্নত অর্থনীতি এবং আধুনিক শহুরে সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন সমৃদ্ধ জনপদে রূপান্তর করতে হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বাস্তবায়নে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে আসছে।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী (২৫-২৬ জুলাই) ৩৬তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, "গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার সামগ্রিক গুণগত মান উন্নয়নে সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে আরডিএ। আগামী দিনে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, দারিদ্র্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গঠন এবং গ্রামীণ বস্তুগত উন্নয়নে একটি ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মিশন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ইতিবাচকভাবে এগিয়ে চলেছে।" আগামী দিনের সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং জাতীয় জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনার দিকনির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর জোর দেন তিনি।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, "আমাদের সবাইকে অনর্থক সংঘাতের রাজনীতি পুরোপুরি পরিহার করে আধুনিক শিক্ষা, নাগরিক মর্যাদা ও টেকসই উন্নয়নের ইতিবাচক পথে ধাবিত হতে হবে। তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রান্তিক কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি, শ্রমজীবী মানুষের জীবন ধারণের উপযোগী মজুরি, সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের পাশাপাশি যে কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনের কঠোর ও যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।" তিনি পারস্পরিক আস্থা ও আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।
আরডিএ মিলনায়তনে আয়োজিত এই উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মো. শওকত রশীদ চৌধুরী। সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরডিএর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামানিক।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, কাজী রফিকুল ইসলাম, রেজাউল করিম বাদশা, মো. মোশারফ হোসেন ও সুরাইয়া জেরিন রনি, রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল-ই-মোহামেদ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক।
সম্মেলনের প্রকাশনায় জানানো হয়, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরডিএ বহুমুখী গবেষণা ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবনের মধ্যে রয়েছে পানি-সাশ্রয়ী সেচব্যবস্থা, সৌরচালিত সেচ, দ্বিস্তর কৃষি, কমিউনিটি বায়োগ্যাস, নারী বীজ উদ্যোক্তা মডেল, রুরাল প্ল্যান্ট ক্লিনিক, ট্রাইকোডার্মা প্রযুক্তি, আইওটি (IoT)-ভিত্তিক সেচব্যবস্থা ও গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তি। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে উন্মুক্ত গবেষণা আলোচনা, পোস্টার প্রদর্শন এবং উদ্ভাবনী কৃত্রিম প্রযুক্তি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
|