চুমু দেওয়া শিক্ষকের কাজ নয়, নেতারও নয়: রাশেদ খান
অনলাইন ডেস্ক:গাজীপুরের টঙ্গীর একটি মাদরাসায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে শিক্ষক কর্তৃক চুমু দেওয়ার অভিযোগ এবং এর জেরে শিশুটির বাবার অভিযুক্ত শিক্ষককে চড়-থাপ্পড় মারার ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তোলা এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে এবার নিজের স্পষ্ট মতামত তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিশেষ স্ট্যাটাসে তিনি এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন। রাশেদ খান লেখেন, "চুমু দেওয়া একজন শিক্ষকের কাজ নয়, এমনকি একজন রাজনৈতিক নেতারও কাজ নয়।" টঙ্গীর মাদরাসার ঘটনাটি জনমনে ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও অভিভাবকদের মনে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এ ধরনের ঘটনা সামাজিকভাবে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি জন্ম দেয়।
তবে এই ঘটনাকে পুঁজি করে যারা পুরো মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তাদের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। রাশেদ খান বলেন, কোনো একজন ব্যক্তির অপরাধের দায় কোনোভাবেই পুরো মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপানো যুক্তিযুক্ত নয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের দায়িত্বশীল মাদরাসা শিক্ষকেরা যৌথভাবে এই জাতীয় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার স্থায়ী প্রতিকার খুঁজে বের করবেন এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন।
নিজের পোস্টে শিশুদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রাশেদ খান আরও লেখেন, প্রতিটি বাবা-মায়ের কাছে তাঁদের সন্তান অত্যন্ত পবিত্র আমানত। সেই অবুঝ সন্তানের দিকে কেউ অসাধু উদ্দেশ্যে কুনজর দিলে কিংবা অন্যায় করলে অভিভাবকদের ক্ষুব্ধ হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকাও জরুরি।
একইসঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের সামাজিক আচরণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, প্রকাশ্য কিংবা অপ্রকাশ্য যে কোনো আচরণ সমাজ ও শিশুদের ওপর বড় ধরণের প্রভাব ফেলে। কোনো নেতার স্নেহের আচরণও যদি সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করে বা অন্য কেউ তার সুযোগ নিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সুযোগ পায়, তবে তা অবশ্যই বর্জনীয়। টঙ্গীর এই ঘটনার প্রেক্ষাপট থেকে শিক্ষা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজেদের আচরণগত দিকে আরও সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
সকালবেলা / নুসরাত