এবারের বাজেট জাতির প্রত্যাশা পূরণ করবে: অর্থমন্ত্রী
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ১২টা ৪৯ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘সংসদ লবি, অর্থমন্ত্রীর বাজেট যাত্রা ও গণমাধ্যম খতিয়ান’ এবং ‘ম্যাক্রো ইকোনমি, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে সাংবাদিকদের সাথে অর্থমন্ত্রীর আলাপচারিতার মূল বক্তব্য বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
আজ দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়ার পথে লবিতে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় সংক্ষিপ্ত আলাপকালে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি সাধারণ মানুষের সামগ্রিক কল্যাণের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ বিবেচনায় নিয়েই এবারের বাজেট নিখুঁতভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে। আমরা জাতিকে সামনে রেখে এবং এ দেশের প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত কল্যাণ ও দেশের উন্নয়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বাজেটের সব বিষয় ও খাতভিত্তিক বরাদ্দ নির্ধারণ করেছি।”
এবারের বাজেট প্রণয়নের পেছনে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের ভিন্নতার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “এবারের বাজেটের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটটি বিগত ১৯ বছরের চেয়ে কিছুটা আলাদা। দীর্ঘদিন পর দেশে একটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের অধীনে এই প্রথম জাতীয় বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে। ফলে স্বভাবতই নতুন সরকারের প্রতি এ দেশের আপামর জনসাধারণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাও অনেক বেশি। আমরা সাধারণ মানুষের সেসব প্রত্যাশার সব দিক অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বিবেচনায় রেখেই বাজেটটি সাজানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।”
দেশের বর্তমান আর্থিক সংকট ও সামষ্টিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অকপটে বলেন, “আমাদের রাষ্ট্রীয় কোষাগারের যতটুকু সামর্থ্য রয়েছে, ঠিক তার মধ্যেই আমাদের এই বিশাল বাজেটটি করতে হয়েছে। একটি বিধ্বস্ত এবং নানা সংকটে ভঙ্গুর হয়ে পড়া অর্থনীতি থেকে দেশকে টেনে তুলে প্রথমে স্থিতিশীলতার পথে নিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে আগামী দিনে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য আমাদের রয়েছে। সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি প্রাথমিক ও শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রচেষ্টা এই বাজেটের পাতায় পাতায় প্রতিফলিত হয়েছে।”
নতুন এই বাজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক দিকটি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, এই বাজেটের মূল দর্শন হলো দেশের সব নাগরিককে অর্থনৈতিক মূলধারার অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা। জাতীয় ও অর্থনৈতিক সকল কার্যক্রমে সমাজের তৃণমূলের মানুষও যাতে সমানভাবে অংশ নিতে পারে এবং রাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল যেন সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছায়, সেদিকে বাজেটের নীতিমালায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একটি আধুনিক কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শক্তিশালী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্য নিয়েই এই সুনির্দিষ্ট বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে এবং সীমিত সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এই বাজেট শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জান্নাত সকালবেলা
|