কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিবের বদলিতে ব্রিতে কর্মজীবিদের স্বস্তি, মিষ্টি বিতরণ
বিশেষ সংবাদদাতা: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) দুর্নীতিগ্রস্ত সিন্ডিকেটকে অনৈতিক ও আইনি সুরক্ষাদানের অভিযোগে অভিযুক্ত কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শেখ হাফিজুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে। এই বদলির আদেশের পর ব্রির সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং ক্যাম্পাসে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।
গত বুধবার (১ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের গবেষণা শাখা-৩-এর উপসচিব শেখ হাফিজুর রহমানকে জনস্বার্থে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) হিসেবে বদলি করা হয়।
ব্রির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এই উপসচিব বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমল থেকেই কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় জেঁকে বসেছিলেন। ছাত্র-জনতার আগস্ট বিপ্লবের পর ব্রির মহাপরিচালকের রুটিন দায়িত্বে থাকা ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানের মেয়াদে অনুষ্ঠিত সব নিয়োগ পরীক্ষায় নজিরবিহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ করে দেন তিনি। শেখ হাফিজুর রহমান ব্রির ডিপিসি (বিভাগীয় পদোন্নতি ও নির্বাচন কমিটি) এর সদস্য হওয়ার সুবাদে ব্রির গবেষণা পরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম তাঁর ইচ্ছামতো অজ্ঞাতসংখ্যক আত্মীয়কে চাকরি দেন। এমনকি নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়াই চাকরি দেওয়ার ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কয়েকজন অভিযুক্ত বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ড. রফিক ও তাঁর সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী ড. হাবিবুর রহমান মুকুলসহ এই চক্রটির বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে শত শত অভিযোগ জমা পড়লেও শেখ হাফিজুর রহমান আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে সেগুলো ধামাচাপা দিয়ে রাখতেন। এছাড়া ব্রির প্রবিধানমালায় যোগ্যতা সংযুক্ত হওয়ার আগেই দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কাওছার আহমেদ নামের একজনকে সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর পদে পদোন্নতি দিতে অনৈতিক ভূমিকা রাখেন হাফিজুর।
উল্লেখ্য, গত ৩ মে সরকারি সিদ্ধান্তে ব্রির জ্যেষ্ঠতম সিএসও ড. আমিনুল ইসলামকে মহাপরিচালকের দায়িত্ব প্রদান করা হলে ড. রফিকুল ইসলামের সিন্ডিকেট এর বিরোধিতা করে। ড. হাবিবুর রহমান মুকুলের নেতৃত্বে গত ৪ মে ব্রির প্রবেশদ্বারে তালা মেরে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তদন্তে কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কামরুল হাসানকে আহ্বায়ক এবং উপসচিব শেখ হাফিজুর রহমানকে সদস্য-সচিব করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু সদস্য-সচিব হাফিজুর রহমান তাঁর প্রিয়ভাজন ড. রফিক ও তাঁর সহযোগীদের রক্ষা করতে তদন্ত কার্যক্রমে ইচ্ছাকৃত দীর্ঘসূত্রিতার আশ্রয় নেন। গত ১ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে এই সংক্রান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জনাব ইসমাইল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে হাফিজুরের এই আকস্মিক বদলির আদেশ জারি করা হয়।
এই বদলি আদেশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্রির কর্মকর্তা ও গবেষকদের স্বস্তি প্রকাশ করতে দেখা গেছে। ব্রির সদ্য অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ আলী ছিদ্দিক তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, "কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক দুর্নীতিবাজ/তাদের একান্ত সহযোগীর বিদায়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছেন অনেকেই! আমি শুনেছি, আসল ঘটনা কী?"
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্রির একাধিক বিজ্ঞানী মন্তব্য করেন, শেখ হাফিজুর রহমানের অপসারণের ফলে এখন আশা করা যাচ্ছে যে, গত ৩ ও ৪ মে ব্রিতে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে এবং ড. রফিকের নেতৃত্বাধীন এই দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের হাত থেকে দেশের ঐতিহ্যবাহী এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি অবশেষে মুক্ত হবে।
এআইএল/সকালবেলা
|