৮৩৭ যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের পথে মৌসুমের প্রথম জাহাজ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
৮৩৭ যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের পথে মৌসুমের প্রথম জাহাজ
মৌসুমের প্রথম দিনে ৮৩৭ যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট ত্যাগ করছে পর্যটকবাহী জাহাজ

দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর ও নানা দাপ্তরিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে চলতি পর্যটন মৌসুমে প্রথমবারের মতো কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে শুরু হয়েছে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) সকাল সাড়ে ৭টায় কক্সবাজার জেলা শহরের নুনিয়ারছড়াস্থ বিআইডব্লিউটিএ (BIWTA) জেটি ঘাট থেকে ৮৩৭ জন পর্যটক বহন করে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ঐতিহ্যবাহী জাহাজ ‘এমভি বার আউলিয়া’। ভোর ৬টা থেকেই সেন্টমার্টিনগামী হাজারো পর্যটকে গমগম করে ওঠে ঘাট প্রাঙ্গণ।

সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (স্কোয়াব)-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, “৮৩৭ জন যাত্রী নিয়ে চলতি মৌসুমের প্রথম জাহাজটি সফলভাবে যাত্রা করেছে। এর মধ্য দিয়ে পর্যটন শিল্পকে ঘিরে অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে।”

এদিকে, প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের নাজুক পরিবেশ ও বিপন্ন জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে ভোর থেকেই ঘাটে কঠোর অবস্থানে দেখা গেছে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআইডব্লিউটিএ ও কোস্ট গার্ডের যৌথ টিমকে। কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি পর্যটকদের সাথে থাকা একবার ব্যবহারযোগ্য (সিঙ্গেল ইউজ) প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন এবং সাউন্ডবক্স জাহাজে তুলতে বাধা দেওয়া হয় এবং সেগুলো ঘাটেই জব্দ করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা ও পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম জানান, সেন্টমার্টিন রক্ষায় সরকারের পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাবলী অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। দ্বীপে কেয়াবনে প্রবেশ, ছেঁড়াদ্বীপে যাতায়াত, রাতে আলো জ্বালিয়ে সৈকতে পার্টি আয়োজন বা উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রথম দিন যাত্রায় আনন্দ প্রকাশ করলেও টিকেটিং ব্যবস্থা ও বাড়তি ভাড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকাসহ দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা। যাত্রীদের অভিযোগ, অনলাইনে আগাম টিকিট কাটার পরও ঘাটে নানাবিধ হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। পাশাপাশি আগে সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ৩ হাজার ৫০০ টাকা থাকলেও এবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২০০ টাকায়, অর্থাৎ প্রতি টিকিটে ৭০০ টাকা অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসারে চলতি বছরের ১ নভেম্বর থেকে আগামী ১৫ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত সেন্টমার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। চলতি মৌসুমে নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে চলাচলের অনুমতি পাওয়া ৩টি জাহাজ (এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলি ও এমভি টেকনাফ)-এর মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। সরকারি নিয়ম মেনে প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক ট্রাভেল পাস, ১০০ টাকা পরিবেশ ফি ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিটের মাধ্যমে সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ ও রাতযাপনের সুযোগ পাবেন।