বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের মঙ্গল কামনা করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫০ অপরাহ্ণ
বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের মঙ্গল কামনা করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। (ছবি: সংগৃহীত)

জাতীয় প্রধান: শারীরিক গুরুতর অসুস্থতা ও অসামর্থ্যের কারণ দেখিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন ইস্তফা প্রদান করার পর তাঁর পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। একই সংগে সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি বিদায়ী রাষ্ট্রপতির শারীরিক সুস্থতা ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করেছেন।

আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে পদত্যাগপত্র পাওয়ার পর জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ জরুরি সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন স্পিকার।

সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, "মাননীয় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মূলত শারীরিক অসামর্থ্য ও অসুস্থতার যুক্তিসংগত কারণে স্বপ্রণোদিত হয়ে পদত্যাগ করেছেন। তাঁর পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। আমি ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁর দ্রুত আরোগ্য ও সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করছি।"

বিদায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদের মূল্যায়নে স্পিকার আরও উল্লেখ করেন, "আমার মনে হয়, উনি বিগত মাফিয়া সরকারের আমলকালে নির্বাচিত হলেও পরবর্তীতে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রতি সব সময় সুদৃঢ় সমর্থন, আস্থা ও সম্মান প্রকাশ করেছেন।"

এর আগে বিকেলে গুরুতর স্বাস্থ্যগত কারণ দর্শিয়ে স্পিকারের নিকট নিজের স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন মো. সাহাবুদ্দিন। সাংবিধানিক পদে শূন্যতা তৈরি হওয়ায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের দায়িত্বভার সামলাবেন।

সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্রপতি স্পিকারকে সম্বোধন করে স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। এছাড়া ৫৪ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণবশত তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবেন।

স্পিকারের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন নিজের শারীরিক অসুস্থতার বিবরণ দিয়ে লেখেন, "আমি গুরুতর অসুস্থ। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও চরম কিডনি জটিলতায় ভুগছি। ইতোমধ্যে আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে। তা ছাড়া সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় আমার ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথিক’ রোগ শনাক্ত হয়েছে, যার প্রভাবে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক সময়ের জন্য পুরোপুরি অচেতন হয়ে পড়ি। এসব জটিল ব্যাধির প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।

মন্তব্য করুন