স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকবে, হস্তক্ষেপ করবে না: প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৩ অপরাহ্ণ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকবে, হস্তক্ষেপ করবে না: প্রতিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের আগামী জুন মাসের মধ্যে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের সমস্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) পুনরায় অনুরোধ ও তাগিদ জানিয়েছে সরকার। এই বৃহৎ নির্বাচনী কর্মযজ্ঞ সম্পাদনের জন্য বাজেট থেকে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে 'গ্রাম পুলিশ সমাবেশ' আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক সভার শুরুতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জোর দিয়ে বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষ ও বিতর্কমুক্ত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অতীতের কোনো বিতর্ক বা কলঙ্কের দায় এই সরকার নেবে না। মাঠপর্যায়ের বেসামরিক প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন কেবল নির্বাচন কমিশনের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবে এবং নির্বাচনে প্রশাসন কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না।”

তিনি আরও জানান, নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ বা 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' নিশ্চিত করা হবে, যাতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দল বাড়তি সুবিধা না পায়। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে সাধারণ মানুষ যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করবে প্রশাসন।

নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং বাজেট বণ্টন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা চলতি অর্থ বছরের মধ্যে নির্বাচনগুলো শেষ করার লক্ষ্যে আনুমানিক ৬ হাজার কোটি টাকার একটি পূর্ণাঙ্গ বাজেট বরাদ্দ রেখেছি। নির্বাচন কমিশন যদি নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন পরিচালনা করতে না পারে, তবে বরাদ্দের এই অর্থ অব্যবহৃত থেকে যাবে এবং পরবর্তী অর্থ বছরে চলে যাবে। সুতরাং সময়মতো ভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ব ইসিকেই নিতে হবে।”

ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের নিয়ে প্রাথমিক বৈঠক করেছে এবং কিছু ধাপের নির্বাচনের খসড়া সময়সূচি নির্ধারণ করেছে। বাকি ধাপগুলোর তারিখও আলোচনার ভিত্তিতে ইসি চূড়ান্ত করবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

সরকার কেবল প্রয়োজন অনুযায়ী লজিস্টিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দেবে, তবে নির্বাচন সঠিকভাবে পরিচালনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব কমিশনের ওপরই বর্তায় বলে উল্লেখ করেন মীর শাহে আলম।