ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ যে ফলগুলো প্রতিদিন খেতে হবে

প্রকাশ: রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০২:০১ অপরাহ্ণ
ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ যে ফলগুলো প্রতিদিন খেতে হবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক: ফল খাওয়ার মধ্যে এক অদ্ভুত স্বস্তিদায়ক অনুভূতি রয়েছে। এটি হালকা, সুস্বাদু এবং সহজলভ্য। তবে অনেক ফলের ভেতরে এমন কিছু পুষ্টি উপাদান লুকিয়ে থাকে, যার ওপর আমাদের শরীর কতটা নির্ভরশীল তা আমরা অনেকেই উপলব্ধি করতে পারি না। ‘ম্যাগনেসিয়াম’ তেমনই একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান।

শরীরের নানা কার্যকলাপে ম্যাগনেসিয়াম নেপথ্যে থেকে কাজ করে। এটি পেশি শিথিল করতে, স্নায়ুর কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখতে, হৃদস্পন্দন স্থির রাখতে এবং এমনকি ভালো ঘুম ও মেজাজ (মুড) নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবদেহে ৩০০-র বেশি এনজাইম বা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ম্যাগনেসিয়াম সরাসরি জড়িত। শরীরে এর ঘাটতি হলে অতিরিক্ত ক্লান্তি, পেশিতে টান বা খিঁচুনি এবং অনিদ্রার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। সাধারণত বাদাম বা বিভিন্ন বীজ জাতীয় খাবারকে ম্যাগনেসিয়ামের প্রধান উৎস ধরা হলেও, বেশ কিছু ফল রয়েছে যা নীরবে শরীরে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম সরবরাহ করে। একই সাথে এগুলো ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পানির জোগান দেয়।

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা যায় এমন ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ ফল হলো

পুষ্টি বিষয়ক আলোচনায় শুকনো ডুমুর খুব একটা সামনে না আসলেও, খনিজের দিক থেকে এটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। মাত্র এক কাপ শুকনো ডুমুরে প্রায় ১০১ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম থাকে। প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি এই ফলটি ফাইবার, পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়ামও সরবরাহ করে, যা হজমে সহায়তা করার পাশাপাশি পেশি ও স্নায়ুকে সুস্থ রাখে।

কলা সাধারণত পটাশিয়ামের জন্য পরিচিত হলেও এতে পর্যাপ্ত ম্যাগনেসিয়ামও রয়েছে। একটি মাঝারি আকারের কলায় প্রায় ৩২ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম থাকে। ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম শরীরের ভেতরে একসঙ্গে কাজ করে, যা পেশির কার্যকারিতা ঠিক রাখে এবং শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখে। এই কারণেই ক্রীড়াবিদ বা কঠোর পরিশ্রমী মানুষদের কাছে কলা অত্যন্ত প্রিয়।

পেয়ারা ভিটামিন সি-এর ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত হলেও এক কাপ পেয়ারা থেকে প্রায় ৩৬.৪ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়। কম ক্যালোরিযুক্ত এই ফলটিতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা গরমের দিনে শরীরে সতেজতা এনে দেওয়ার পাশাপাশি পুষ্টির জোগান দেয়।

একটি ছোট পেঁপেতে প্রায় ৩৩ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম থাকে। পেঁপেতে ‘প্যাপেইন’ নামক একটি বিশেষ এনজাইম থাকে, যা হজমপ্রক্রিয়াকে দারুণভাবে ত্বরান্বিত করে এবং পেট ফাঁপা বা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। এর নরম গঠনের কারণে শিশু, বয়স্ক কিংবা সংবেদনশীল হজমশক্তির মানুষেরা অনায়াসে প্রতিদিন পেঁপে খেতে পারেন।

সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে কৃত্রিম সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধের ওপর নির্ভর না করে প্রতিদিনের খাবার তালিকায় এই প্রাকৃতিক ফলগুলো যুক্ত করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন