গলগণ্ড রোগের কারণ, লক্ষণ, নির্ণয় ও আধুনিক চিকিৎসা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ণ
গলগণ্ড রোগের কারণ, লক্ষণ, নির্ণয় ও আধুনিক চিকিৎসা

ডা. রতন লাল সাহা: গলগণ্ড বা ঘ্যাগ হলো থাইরয়েড গ্রন্থির একটি গুরুত্বপূর্ণ রোগ, যাতে গলার সামনের অংশ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়। প্রাথমিক অবস্থায় ব্যথা না থাকায় অনেক রোগীই এটি অবহেলা করেন, যা পরবর্তী সময়ে শরীরের বিপাকক্রিয়ায় বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

গলগণ্ডের তিনটি স্তর:

  • প্রথম স্তর: চোখে দেখা যায় না, তবে স্পর্শ করলে অনুভব করা যায়।

  • দ্বিতীয় স্তর: স্পষ্টভাবে দেখা ও অনুভব করা যায়।

  • তৃতীয় স্তর: অত্যন্ত বড় আকার ধারণ করে এবং শ্বাসকষ্ট বা খাবার গিলতে অসুবিধার সৃষ্টি করে।

লক্ষণ ও উপসর্গ:

গলগণ্ডের উপসর্গ থাইরয়েড হরমোনের তারতম্যের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে:

  • হরমোন বাড়লে (হাইপারথাইরয়েডিজম): হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, অস্থিরতা, হাত কাঁপা, উচ্চ রক্তচাপ এবং চোখ সামনের দিকে উঁচু হয়ে আসা।

  • হরমোন কমলে (হাইপোথাইরয়েডিজম): ক্ষুধামন্দা, ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা, কোষ্ঠকাঠিন্য, অবসাদ এবং ওজন বৃদ্ধি।

প্রধান কারণসমূহ:

গলগণ্ডের অন্যতম প্রধান কারণ হলো আয়োডিনের অভাব। এছাড়া সেলেনিয়ামের ঘাটতি, হাশিমোটোর থাইরয়েডাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগ এবং কিছু ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাসের কারণেও এটি হতে পারে।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা:

রোগ নির্ণয়ে প্রথমেই থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট ($T_3$, $T_4$, $TSH$) এবং ঘাড়ের আল্ট্রাসাউন্ড করা হয়। প্রয়োজনে ক্যান্সার শনাক্তে FNAC পরীক্ষাও করা হয়।

চিকিৎসা পদ্ধতি কারণের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়:

  • ওষুধ: আয়োডিন বা হরমোন সাপ্লিমেন্ট।

  • রেডিওঅ্যাক্টিভ আয়োডিন: গ্রন্থিকে সংকুচিত করতে ব্যবহৃত হয়।

  • অস্ত্রোপচার: বড় আকারের গলগণ্ড বা ক্যান্সার সন্দেহে থাইরয়েডেক্টমি করা হয়।

আয়োডিনযুক্ত লবণের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমেই এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন