পাসপোর্ট সেবায় প্যারিস দূতাবাসের বিশেষ কার্যক্রম, সহায়তায় প্রবাসী কমিউনিটি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বহুল প্রতীক্ষিত ই-পাসপোর্ট সেবা আরও গতিশীল, সহজ ও ভোগান্তিমুক্ত করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্যারিসস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের সংকট, ওয়েবসাইটের কারিগরি জটিলতা এবং পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে এই বিশেষ কনস্যুলার কার্যক্রম শুরু করা হয়।
গত শনিবার (২৫ জুলাই) থেকে কার্যকর হওয়া এ বিশেষ সেবার প্রথম দিনেই ৮৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত বায়োমেট্রিক ও অন্যান্য জরুরি সেবা গ্রহণ করেছেন। এ দিন ফরাসি প্রেফেকচারে রেসিডেন্স পারমিট সংক্রান্ত জরুরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকা প্রবাসী এবং দীর্ঘদিন ধরে তালিকায় অপেক্ষমাণ আবেদনকারীরা কোনো পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা প্রক্রিয়াকরণের সুযোগ পান।
দূতাবাস সূত্র সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীদের আবেদনের চাপ বিবেচনা করে প্রথম ধাপে ২৫ জুলাই, ৮ আগস্ট এবং ২২ আগস্ট—এই তিনটি নির্ধারিত শনিবারে বিশেষ কনস্যুলার সেবা কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ইমেইলভিত্তিক প্রথাগত আবেদনের বদলে আধুনিক ওয়েবসাইটভিত্তিক অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালু করে দূতাবাস। তবে সীমিত স্লট ও অতিরিক্ত আবেদনকারীর কারণে সময়মতো সময় না পাওয়া এবং কারিগরি ত্রুটির নানা অভিযোগ তুলেছিলেন প্রবাসীরা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিল জানান, ই-পাসপোর্ট অত্যন্ত সংবেদনশীল বায়োমেট্রিকভিত্তিক তথ্য যাচাইপ্রক্রিয়া। কেন্দ্রীয় সার্ভার ও দূতাবাসের যৌথ কার্যক্রমের ওপর এটি নির্ভরশীল হওয়ায় কিছুটা সময় লাগছে। তবে সাময়িক চাপ কাটিয়ে সেবার মানোন্নয়নে দূতাবাস নিরলসভাবে কাজ করছে।
এদিকে বিশেষ এই উদ্যোগকে সুশৃঙ্খল রাখতে বাংলাদেশ দূতাবাসের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় প্রাক-কমিউনিটি ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। সেবাগ্রহীতাদের সঠিক তথ্য প্রদান, লাইন ব্যবস্থাপনা ও ফরম পূরণে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সহায়তা করছেন বাংলাদেশ নাগরিক পরিষদ ফ্রান্স ও বিএনপি ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা।
সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা মনে করেন, উদ্যোগটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রশংসনীয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যার সমাধান করতে অনলাইন পোর্টালের স্লট বাড়ানো, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সুসংহত করা এবং সরাসরি যোগাযোগের কার্যকর হেল্পলাইন চালুর ওপর জোর দিয়েছেন তারা। പ്രবাসীদের প্রত্যাশা, দূতাবাসের এই উদ্যোগের মাধ্যমে ফ্রান্সে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি নাগরিক হয়রানিমুক্ত সেবা পাবেন।
|