হরমুজে চরম উত্তেজনা: যুক্তরাষ্ট্রকে ‘হঠকারী’ বলছে ইরান

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৩:৫৭ অপরাহ্ণ
হরমুজে চরম উত্তেজনা: যুক্তরাষ্ট্রকে ‘হঠকারী’ বলছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। যখনই কোনো কূটনৈতিক সমাধান টেবিলে আসে, তখনই যুক্তরাষ্ট্র বেপরোয়া সামরিক হঠকারিতা বেছে নেয় বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। হরমুজ প্রণালীতে দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা এবং সমুদ্রপথে অচলাবস্থা তৈরির প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে আব্বাস আরাগচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানিরা চাপের মুখে কখনও নতি স্বীকার করবে না। তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক ইরানি জাহাজে হামলা চালাচ্ছে এবং অবরোধ আরও জোরদার করছে। আরাগচি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার সুযোগ নষ্ট করে যুদ্ধের পথ বেছে নিচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধে একটি যুদ্ধবিরতি চললেও তা অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করছে এবং পারস্য উপসাগরে মার্কিন মিত্রদের ওপর পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই জলপথ অবরুদ্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে সেখানে প্রায় ২,০০০ জাহাজ আটকা পড়ে আছে।

ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে দেশটির বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শুক্রবার তাদের বাহিনী ওমান উপসাগরে দুটি ইরানি তেলের ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়ে সেগুলো বিকল করে দিয়েছে। জাহাজগুলো মার্কিন অবরোধ অমান্য করে ইরানি বন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। সেন্টকমের দাবি, বর্তমানে তারা ৭০টিরও বেশি ট্যাঙ্কারকে ইরানি বন্দরে প্রবেশ বা বের হতে বাধা দিচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে দাবি করেছেন, তাঁর বাহিনী ইরানের একাধিক ড্রোন, মিসাইল এবং ছোট নৌকা ধ্বংস করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি দ্রুত চুক্তিতে সই না করে, তবে ভবিষ্যতে তাদের ওপর আরও ভয়াবহ ও হিংস্র আক্রমণ চালানো হবে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, বড় পরিসরে যুদ্ধবিরতি এখনও টিকে আছে।

এদিকে সংকট নিরসনে পাকিস্তান ও কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ওয়াশিংটনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কাতার সব পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের মূলে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, আগামী ১৪ ও ১৫ মে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে নতুন করে আলোচনার আয়োজন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যার লক্ষ্য হলো হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যকার লড়াই থামানো।

হরমুজ প্রণালীর এই সংঘাত কেবল দুটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কূটনৈতিক টেবিলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দেওয়া প্রস্তাব ইরান গ্রহণ করবে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের আগামী দিনগুলোর ভাগ্য।

মন্তব্য করুন