পৃথিবী কি আগের চেয়ে বেশি কাঁপছে? ভূকম্পন ও বিশেষজ্ঞদের মত

প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৪ অপরাহ্ণ
পৃথিবী কি আগের চেয়ে বেশি কাঁপছে? ভূকম্পন ও বিশেষজ্ঞদের মত
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত একটি অঞ্চল ও পৃথিবীর টেকটনিক প্লেটের চিত্র।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনিজুয়েলা, ফিলিপাইন, কলম্বিয়া কিংবা ইন্দোনেশিয়া—চলতি বছরের জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে বিশ্বের একাধিক অঞ্চলে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী সব ভূমিকম্প। সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন বড় মাত্রার এই ভূকম্পনের কারণে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, পৃথিবী কি আগের চেয়ে বেশি কাঁপছে?

তবে ভূ-বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও পরিসংখ্যান বলছে, সাম্প্রতিক জোরালো কম্পনগুলো বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের জন্ম দিলেও এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। এটি পৃথিবীর দীর্ঘদিনের স্বাভাবিক ভূ-প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ারই একটি অংশ।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (USGS) উপাত্ত অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২০ হাজার ভূমিকম্প বা দিনে প্রায় ৫৫টি ছোট-বড় কম্পন রেকর্ড করা হয়। এর মধ্যে বেশিরভাগই মৃদু হলেও সাধারণত বছরে গড়ে ১৫টির মতো ৭ বা তার চেয়ে বেশি মাত্রার বড় ভূমিকম্প ঘটে থাকে। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ১১টি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে, যা সার্বিক বার্ষিক গড় পরিসংখ্যানের স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই পড়ে।

বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, পৃথিবীর ভূত্বক কয়েকটি বৃহৎ টেকটনিক প্লেটে বিভক্ত। এই প্লেটগুলোর পরস্পরের মুখোমুখি ধাক্কা, সরে যাওয়া কিংবা ঘর্ষণের ফলে তৈরি হওয়া ভূগর্ভস্থ চাপ হঠাৎ মুক্ত হলেই ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। বিশ্বজুড়ে ঘটা বড় বড় ভূমিকম্পগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশই ঘটে প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে অবস্থিত 'রিং অব ফায়ার' অঞ্চলে, যেখানে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলোর বড় অংশই কেন্দ্রীভূত ছিল।

প্রযুক্তি ও দ্রুত যোগাযোগ মাধ্যমের বিকাশকেও এই আতঙ্কের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। আধুনিক সিসমোগ্রাফ যন্ত্রের কল্যাণে ভূগর্ভের অতি মৃদু কম্পনও দ্রুত ধরা পড়ছে, আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুবাদে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের ভূমিকম্পের খবর মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে মানুষের মনে মনে হচ্ছে ভূমিকম্প আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।

পৃথিবীর ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সম্পর্কিত আরও বিস্তারিত উপাত্ত ও জরুরি বৈজ্ঞানিক তথ্যের জন্য সরাসরি মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-এর অফিশিয়াল পোর্টালে যুক্ত হওয়া যেতে পারে।

মন্তব্য করুন