শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একে-৪৭ ব্যবহার, ভারতের বিহারের জেলা পুলিশ সুপার পদচ্যুত
ভারতের বিহার রাজ্যের সিওয়ান জেলায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমাতে একে-৪৭ রাইফেলের মতো মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ঘটনায় তুমুল তোলপাড়ের মুখে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) পুরণ কুমার ঝাকে পদচ্যুত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজ্য সরকারের এক আদেশে তাঁকে স্বপদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে সম্প্রতি সিওয়ান জেলার জেপি চকের কাছে শিক্ষার্থীদের এক বিক্ষোভের সময় দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্যের একে-৪৭ থেকে গুলি চালানোর ভিডিয়ো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
কী ঘটেছিল আন্দোলনে?
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৫ জুলাই সিওয়ানের জেপি চক এলাকায় শিক্ষার্থীদের একটি বড় আন্দোলন চলছিল। সেই সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে দায়িত্বপ্রাপ্ত কনস্টেবল অভিষেক কুমার তাঁর হাতে থাকা একে-৪৭ রাইফেল থেকে পরপর চার রাউন্ড গুলি ছোড়েন। অগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের চরম অভিযোগ ওঠার পরপরই অভিযুক্ত ওই কনস্টেবলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
তবে ঘটনার সময় সার্বিক প্রশাসনিক দায়িত্বে ব্যর্থতার অভিযোগে এবার জেলা পুলিশ প্রধান অর্থাৎ এসপি পুরণ কুমার ঝার ওপরও শাস্তির কোপ পড়ল। আপাতত কোনো নতুন পোস্টিং না দিয়ে তাঁকে পর্যালোচনার অধীনে রাখা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে বিহার সরকারের হলফনামা:
বিষয়টি গড়ায় ভারতের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত। পুলিশের এমন মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া কয়েকটি আবেদনের জবাবে সুপ্রিম কোর্টে একটি স্পষ্ট হলফনামা জমা দিয়েছে বিহার রাজ্য সরকার।
হলফনামায় সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বিক্ষোভকারীরা ঘেরাও করায় কনস্টেবল অভিষেক কুমার জনতার মাঝে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। তখন ভিড় থেকে নিজেকে আত্মরক্ষা ও পরিস্থিতি সামাল দিতে বাধ্য হয়ে তিনি আকাশের দিকে লক্ষ্য করে চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। ওই গুলিবর্ষণে সরাসরি কেউ আহত হননি বলেও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
দিল্লির ককক্রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনসহ অন্যান্য বেশ কয়েকটি বিক্ষোভ দমনে পুলিশের অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহারের আপিলগুলোর সাথেই এই মামলার যৌথ শুনানি চলছে। রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশ সুপার ও কনস্টেবলের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে সেসময় দায়িত্বে থাকা অন্য কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
|