মার্কিন রণতরীতে ৩০ ঘণ্টা ধরে জ্বলছিল আগুন, অসুস্থ কয়েক ডজন নাবিক

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
মার্কিন রণতরীতে ৩০ ঘণ্টা ধরে জ্বলছিল আগুন, অসুস্থ কয়েক ডজন নাবিক

মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড-এর লন্ড্রি রুমে (কাপড় ধোয়ার স্থান) গত সপ্তাহে লাগা আগুন ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জ্বলছিল। এই ঘটনায় রণতরীতে থাকা কয়েক ডজন নৌ-সেনা ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

সোমবার (১৬ মার্চ) নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক নাবিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি এ তথ্য জানিয়েছে। গত সপ্তাহে মার্কিন নৌবাহিনী আমেরিকার এই বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজে আগুন লাগার বিষয়টি প্রকাশ করেছিল। তখন বলা হয়েছিল যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, এটি কোনো যুদ্ধকালীন হামলা নয় এবং এতে দুজন নাবিক সামান্য আহত হয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছিল, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীন লোহিত সাগরে মোতায়েনকৃত ১ লাখ টন ওজনের এই জাহাজটির সামরিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি।

তবে ১৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই জাহাজে থাকা প্রায় ৪ হাজার ৫০০ ক্রু এবং এয়ার উইং সদস্যদের জন্য পরিস্থিতি মোটেও স্বাভাবিক নয়। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুনের কারণে প্রায় ৬০০ নাবিক তাদের থাকার জায়গা হারিয়েছেন এবং বর্তমানে তারা টেবিল বা মেঝেতে ঘুমাচ্ছেন। এ ছাড়া অনেকেই তাদের কাপড় ধুতে পারছেন না।

পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরের দায়িত্বে থাকা মার্কিন ৫ম ফ্লিটের কাছে এই প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়েছিল সিএনএন।

ইউএসএস ফোর্ডের বর্তমান মোতায়েনকাল এখন ১০ম মাসে পদার্পণ করেছে। দীর্ঘ এই সময়ে জাহাজটির টয়লেট সংক্রান্ত সমস্যাও প্রকট হয়ে উঠেছে। এনপিআর গত জানুয়ারিতে প্রথম এই সমস্যার কথা জানিয়েছিল। গত কয়েক বছরে প্লাম্বিং সমস্যার সমাধানে কয়েক ডজন বার বাইরের সাহায্য নিতে হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ১২ বার সাহায্য নেওয়া হয়েছে বর্তমান মোতায়েনকালীন সময়েই।

গত জুনে ভার্জিনিয়ার নরফোক বন্দর ছাড়ার পর থেকে ফোর্ড আটলান্টিক পেরিয়ে ভূমধ্যসাগর, এরপর আবারও আটলান্টিক পেরিয়ে ভেনিজুয়েলা অভিযানে সহায়তার জন্য ক্যারিবিয়ান অঞ্চল এবং বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মোতায়েন যদি আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত স্থায়ী হয়, তবে এটি হবে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর দীর্ঘতম মোতায়েন।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন