তৃষাকে দেওয়া বিজয়ের ‘স্যালুট’ ঘিরে তামিলনাড়ুতে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক
বিনোদন ডেস্ক: অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে নাম লিখিয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সি জোসেফ বিজয়কে (থালাপতি বিজয়) ঘিরে বিতর্কের শেষ নেই। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গুঞ্জন নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে চর্চা দীর্ঘদিনের। এবার ভারতের স্বাধীনতা দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বিজয় ও তৃষার স্যালুট বিনিময় এবং প্রটোকল কেন্দ্র করে নতুন করে তোপ দেগেছে বিরোধী দল।
ঘটনার পটভূমি:
গত ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে চেন্নাইয়ের ফোর্ট সেন্ট জর্জে সরকারি প্যারেড ও অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর বিজয়ের জন্য এটিই ছিল প্রথম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান। উক্ত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে প্রথম সারিতে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান। তাঁর পাশেই বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর বাবা এস চন্দ্রশেখর ও মা শোভা চন্দ্রশেখর।
অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর বিজয় যখন খোলা জিপে চড়ে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করছিলেন, তখন সামনের সারিতে থাকা তৃষা উঠে দাঁড়িয়ে তাকে স্যালুট জানান। প্রতিউত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ও তৃষার দিকে তাকিয়ে স্যালুট প্রদান করেন। ওই মুহূর্তের ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিরোধীদের আক্রমণের মুখে পড়েন বিজয়।
ডিএমকের তোপ ও তীব্র সমালোচনা:
তামিলনাড়ুর প্রধান বিরোধী দল ডিএমকের দলীয় মুখপত্র ‘মুরাসোলি’-র সম্পাদকীয়তে ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। সম্পাদকীয়তে এটিকে সরাসরি ‘লজ্জাজনক দৃশ্য’ ও ‘অশ্লীলতা’ বলে মন্তব্য করা হয়।
পত্রিকাটি প্রশ্ন তোলে— সরকারি কোনো পদে না থাকা সত্ত্বেও কেন একজন অভিনেত্রীকে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের প্রথম সারিতে মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের পাশে আসন দেওয়া হলো? সম্পাদকীয়তে লেখা হয়, "স্বাধীনতা দিবসে পতাকা উত্তোলনকারী মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের প্রটোকল ও মর্যাদা ধুলোয় মিশে গেছে। রাজনৈতিক পরিচয় ও পদের অসদ্ব্যবহার করে এই ধরণের আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। বিজয়ের সমর্থকরাও এই দৃশ্য সহ্য করতে পারছেন না।"
পুরনো বিতর্কের নতুন মাত্রা:
বিজয় ও তৃষার এই স্যালুট বিতর্ক নতুন কিছু নয়। ২০০৪ সালে ‘গিল্লি’ সিনেমার মাধ্যমে এই জুটির অনস্ক্রিন রসায়ন জনপ্রিয়তা পায়। প্রায় ১৪ বছর পর ২০২৩ সালে ‘লিও’ সিনেমায় আবার একসঙ্গে অভিনয় করার পর থেকেই তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা দানা বাঁধে।
এমনকি ২০২৬ সালের শুরুতে বিজয়ের স্ত্রী সঙ্গীতা সোর্নালিঙ্গমের পারিবারিক আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন এবং পরে তা প্রত্যাহারের ঘটনাতেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৃষার নাম জড়িয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও তৃষার উপস্থিতি নিয়ে জোর আলোচনা হয়েছিল। তবে বিরোধীদের এই সাম্প্রতিক আক্রমণের বিষয়ে বিজয়ের রাজনৈতিক দল ‘টিভিকে’ (TVK) এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
|