জিয়া খান মামলা নিয়ে দীর্ঘ ১৪ বছর পর মুখ খুললেন সুরাজ পাঞ্চোলি
বিনোদন ডেস্ক: বলিউডের বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর অভিনেত্রী জিয়া খান আত্মহত্যা মামলায় নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার দীর্ঘ দিন পর অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন অভিনেতা সুরাজ পাঞ্চোলি। আইনি লড়াই শেষ হলেও তাঁকে ঘিরে অসম্পূর্ণ তথ্য ও ভুল খবর ছড়ানোর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন ও দীর্ঘ বার্তা প্রকাশ করেছেন এই অভিনেতা।
আজ রবিবার (২ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি নোটে সুরাজ পাঞ্চোলি গণমাধ্যম ও নেটিজেনদের উদ্দেশ্যে সঠিক তথ্য তুলে ধরার অনুরোধ জানান।
সুরাজ লেখেন, “আমি দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে অত্যন্ত কঠিন এক আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। আদালত সব তথ্য, প্রমাণ ও আইনের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন এবং আমাকে সম্পূর্ণ খালাস করেছেন। অথচ আজও অনেকে প্রকৃত তথ্য না জেনে ‘উত্তরহীন প্রশ্ন’ বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। আদালতের নথি সবার জন্য উন্মুক্ত, তাই যেকোনো মন্তব্য করার আগে সত্য জানাটা জরুরি।”
ঘটনার সময় নিজের কম বয়স ও মানসিক পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে সুরাজ বলেন, “যখন এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে, তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। জিয়ার সঙ্গে আমার পরিচয়ের বয়স ছিল সাকুল্যে চার মাস। তার মনে বা ভেতরে কতটা মানসিক ঝড় চলছিল, তা বোঝার মতো অভিজ্ঞতা আমার ছিল না। কিন্তু এর পর থেকেই বদলে যায় আমার জীবনের গতিপথ। যে বয়সে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার কথা, সেই পুরোটা সময় আমাকে নির্দোষ প্রমাণের দায় নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়েছে।”
জিয়া খানের গোপনীয়তা রক্ষা করা প্রসঙ্গে তিনি আরও যুক্ত করেন, “জিয়া তার জীবনের বহু ব্যক্তিগত কষ্ট ও সংগ্রামের কথা আমার সঙ্গে শেয়ার করেছিল। কিন্তু সে মারা যাওয়ার পরও তার সেই ব্যক্তিগত বিষয়গুলো আমি কখনো মিডিয়ায় এনে বাণিজ্য করিনি। তার সম্মান ও গোপনীয়তাকে আমি সব সময় শ্রদ্ধা জানিয়েছি। এতদিন নীরব ছিলাম বলেই যে কেউ বানিয়ে বানিয়ে গল্প তৈরি করবে, তা হতে পারে না।”
পোস্টের শেষ অংশে আবেগপ্রবণ হয়ে সুরজ লেখেন, “সাধারণ মানুষের কাছে এটি কেবল একটি মুখরোচক খবর বা খবরের শিরোনাম হতে পারে, কিন্তু আমার জন্য এটি জীবনের সবচেয়ে বড় ট্রমা। প্রতিটি বিভ্রান্তিকর ভিডিও বা ভুল হেডলাইন আমাকে আবার সেই যন্ত্রণাদায়ক দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। তাই আমার জীবনের গল্প যদি বলতেই হয়, তবে দয়া করে অর্ধেক না বলে পুরোটা সত্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বলুন।”
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে মুম্বাইয়ের নিজস্ব ফ্ল্যাট থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ‘নিশব্দ’ খ্যাত অভিনেত্রী জিয়া খানের মরদেহ। এর পরপরই জিয়ার মা আদিত্য পাঞ্চোলির ছেলে সুরাজ পাঞ্চোলির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালে বিশেষ সিবিআই আদালত উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে সুরাজ পাঞ্চোলিকে বেকসুর খালাস দেন।
|