চলচ্চিত্র পরিচালনা ও অভিনয়ে কাজী নওশাবা আহমেদের নতুন যাত্রা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৭ অপরাহ্ণ
চলচ্চিত্র পরিচালনা ও অভিনয়ে কাজী নওশাবা আহমেদের নতুন যাত্রা

বিনোদন ডেস্ক: ব্যতিক্রমী অভিনয় ও বৈচিত্র্যময় চরিত্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ। তবে এবার তিনি নিজেকে হাজির করছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আবহে, এক নতুন পরিচয়ে। মঞ্চনাটকে দীর্ঘদিন নির্দেশকের ভূমিকা পালন করলেও এবারই প্রথমবার একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র পরিচালনা করতে যাচ্ছেন তিনি। চলচ্চিত্রটির নাম রাখা হয়েছে ‘সোমেশ্বরী’। তবে চমকের শেষ এখানেই নয়; এই সিনেমার শুধু ক্যামেরার পেছনেই তিনি ছিলেন না, এর একটি প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ক্যামেরার সামনেও দাঁড়িয়েছেন নওশাবা।

সম্প্রতি সুনামগঞ্জের মধ্যনগর ও এর আশেপাশের হাওরাঞ্চলে সিনেমাটির দৃশ্যধারণের কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। প্রকৃতি, নদী ও হাওরের প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে স্থানীয় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। গল্পের প্রধান নারী চরিত্রের জন্য মনের মতো উপযুক্ত কাউকে না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিজেকেই সেই চরিত্রে রূপদান করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই নব্য নির্মাতা।

পরিচালনা ও অভিনয় প্রসঙ্গে নওশাবার ভাষায়, “‘সোমেশ্বরী’ মূলত প্রকৃতিকে সঙ্গে নিয়ে প্রকৃতির গল্প বলার একটি সৎ চেষ্টা। পরিবেশ দূষণ, নদীকেন্দ্রিক জনপদের জীবনযাত্রা ও মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে আমি নতুন নির্মাতা হিসেবে নিজের ভেতরের ভাবনাকে তুলে ধরেছি। আর গ্রামীণ জীবন ও মানুষের সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই আমার আত্মিক পরিচয় থাকায় চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি।”

চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে ‘গ্রিন ফিল্মস’-এর ব্যানারে, যা ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়ার আওতাধীন একটি পরিবেশবান্ধব চলচ্চিত্র প্রকল্প। সিনেমাটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে পাঠানোর পাশাপাশি দেশের মানুষ, বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ যেন সহজে দেখতে পারে, সেই ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান তিনি।

নিজের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সোমেশ্বরী’র পাশাপাশি সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নওশাবা শেষ করেছেন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ঠান্ডা গোশত ২.০’-এর কাজ। এটি যৌথভাবে পরিচালনা ও প্রযোজনা করছেন শাহ নেওয়াজ খান দিলু ও সুমাইয়া আরজু মুর। বর্তমানে ছবিটির পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ চলছে।

চলচ্চিত্রটি বিখ্যাত সাহিত্যিক সাদাত হাসান মান্টোর কালজয়ী ছোটগল্প ‘ঠান্ডা গোশত’ থেকে অনুপ্রাণিত। তবে এটি মূল গল্পের হুবহু রূপান্তর নয়; বরং মান্টোর সাহিত্যে উঠে আসা মানবিক বিপর্যয়, অপরাধবোধ, নৈতিক সংকট ও মনস্তাত্ত্বিক সহিংসতাকে সমকালীন বাংলাদেশের বাস্তব প্রেক্ষাপটে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। গল্পে দেখা যাবে, এক মধ্যবিত্ত দম্পতির সম্পর্কের ভেতরে জমে থাকা এক অস্বাভাবিকতার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় বহুদিনের চাপা পড়ে থাকা এক ভয়ংকর সত্য।

নতুন এই কাজ প্রসঙ্গে নওশবা বলেন, “‘ঠান্ডা গোশত ২.০’ ছবিটির মূল ভাবনা অসাধারণ। প্রায় ছয় বছর ধরে এই স্ক্রিপ্ট নিয়ে ভেবেছেন নির্মাতা। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের সমাজে ঘটে যাওয়া নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলো তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তাই সময়ের এক অস্বস্তিকর ও নির্মম বাস্তবতাকে নির্ভীকভাবে পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে এখানে।” এর আগে ২০২২ সালে ‘পাপবাজার’ নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছিলেন তিনি।

একদিকে পরিবেশ ও প্রকৃতির মানবিক গল্প বলা ‘সোমেশ্বরী’, অন্যদিকে তীব্র সামাজিক বাস্তবতানির্ভর ‘ঠান্ডা গোশত ২.০’—দুটি কাজের ধরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও সমাজ, মানুষ এবং বাস্তবতাকে পর্দার আলো-আধারিতে ফুটিয়ে তোলার এক সাহসী প্রয়াস রয়েছে নওশাবার মাঝে। বাংলাদেশের সমসাময়িক চলচ্চিত্রে অভিনেত্রী ও নির্মাতা হিসেবে তাঁর এই যুগপৎ যাত্রা তাই ঢালিউডে সম্ভাবনার আরেকটি নতুন অধ্যায় উন্মোচন করছে।

মন্তব্য করুন