৩য় শ্রেণির কর্মচারীই রয়ে গেলেন প্রাথমিক শিক্ষকরা

প্রকাশ: সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ণ
৩য় শ্রেণির কর্মচারীই রয়ে গেলেন প্রাথমিক শিক্ষকরা

অনলাইন ডেস্কঃ স্নাতক বা সমমানের উচ্চতর যোগ্যতা অর্জন করেও দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা এখনও ‘তৃতীয় শ্রেণির’ কর্মচারী হিসেবে গণ্য হচ্ছেন। নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শিক্ষাগত ডিগ্রি চাওয়া হলেও পদমর্যাদা ও বেতনের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন সাড়ে তিন লাখেরও বেশি প্রাথমিক শিক্ষক।

বর্তমানে নিয়োগের পর প্রশিক্ষণবিহীন অবস্থায় সহকারী শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন ১৪তম গ্রেডে এবং ডিপিএড বা পিটিআই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর পদায়ন পাচ্ছেন ১৩তম গ্রেডে। অথচ সরকারের অন্যান্য বিভাগে সমপরিমাণ যোগ্যতায় (স্নাতক) পদায়ন পেলে সংশ্লিষ্ট পদগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ১০ম গ্রেড ও ‘দ্বিতীয় শ্রেণির’ মর্যাদা লাভ করে।

আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশার সুরক্ষা, মর্যাদা উন্নয়ন ও আমাদের ভবিষ্যৎ গঠনে ৬০ বছরের অঙ্গীকার’। তবে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষকতার পেশাগত উন্নয়ন ও সম্মান নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনা হলেও বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের মূল দাবি—পদমর্যাদা ও স্কেল উন্নয়ন—এখনও অধরা রয়ে গেছে।

সহকারী শিক্ষকরা বর্তমানে তাঁদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার জোর দাবি জানিয়ে আন্দোলন করছেন। প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক মো. মাহাবুবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, "সরকারি অন্যান্য বিভাগে যেখানে স্নাতক যোগ্যতায় ১০ম গ্রেড ও ২য় শ্রেণির মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে, সেখানে একই যোগ্যতা নিয়ে প্রাথমিকে যোগ দিয়ে কেন একজন শিক্ষক ৩য় শ্রেণির মর্যাদা পাবেন? এ চরম বৈষম্যের কারণেই দেশের তরুণ ও মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আসতে উৎসাহ পাচ্ছেন না। বিষয়টি রাষ্ট্রের অতি গুরুত্ব দিয়ে অনুধাবন করা উচিত।"

শিক্ষকদের এই পদমর্যাদার কাঠামোগত সংকটের পাশাপাশি দেশের শিক্ষায় বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষক প্রশিক্ষণের তীব্র ঘাটতি। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালেও দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪০.৫২ শতাংশ শিক্ষক পেশাগত প্রশিক্ষণের বাইরে ছিলেন। আর মাদ্রাসা শিক্ষার ক্ষেত্রে এ সংখ্যা আরও উদ্বেগজনক।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক মান বাড়াতে যোগ্যতা অনুযায়ী সঠিক সম্মান ও বেতন স্কেল নিশ্চিতের পাশাপাশি চাকরিতে যোগদানের পূর্বেই মানসম্মত ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি। বিশ্বের অনেক দেশেই নির্দিষ্ট সনদ ও প্রশিক্ষণ ছাড়া সরাসরি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকতায় পাঠদান করতে দেওয়া হয় না।

অবশ্য দেশে শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘মাধ্যমিক শিক্ষায় শিখন ত্বরান্বিতকরণ’ (লেইস) শীর্ষক একটি প্রকল্পের অধীনে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯০ জন শিক্ষককে নতুন করে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রশিক্ষণটি দীর্ঘমেয়াদী বা মৌলিক (ফাউন্ডেশন) কোর্স না হওয়ায় এটি প্রাতিষ্ঠানিক ঘাটতি কতটা পূরণ করতে পারবে—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।