পাকিস্তানে আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা

প্রকাশ: সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
পাকিস্তানে আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা

অনলাইন ডেস্কঃ পাকিস্তানের লাহোর শহরে নারী নির্যাতন, বিশেষ করে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি লাহোর পুলিশের প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিগত ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসের তুলনায় চলতি ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে এসব অপরাধে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

পাকিস্তানি গণমাধ্যম সামা টিভির বরাতে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI) জানায়, নতুন করে প্রকাশিত এই তথ্যে স্থানীয় নাগরিক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পুলিশের দেওয়া উপাত্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত লাহোরজুড়ে মোট ৪৯৮টি ধর্ষণের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। যেখানে বিগত ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যাটি ছিল ৪১৩টি। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে অঞ্চলটিতে ধর্ষণের মামলা বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।

একইভাবে বেড়েছে সংঘবদ্ধ বা গণধর্ষণের ঘটনাও। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে লাহোরে ৩৬টি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বছর একই সময়ে এর সংখ্যা ছিল ২৬টি। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা বেড়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশ।

লাহোরের প্রায় প্রতিটি পুলিশ বিভাগেই এই অপরাধের হার ঊর্ধ্বমুখী দেখা গেছে: গত বছরের প্রথম আট মাসে মামলার সংখ্যা ছিল ৩৬টি, যা চলতি বছর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬টিতে।সদর বিভাগ: ধর্ষণের মামলা ৯৮টি থেকে একলাফে বেড়ে হয়েছে ১৩২টি।ইকবাল টাউন: গত বছরের ৪৬টি মামলার জায়গায় চলতি বছর নথিভুক্ত হয়েছে ৮০টি মামলা।মডেল টাউন: এই বিভাগে সাধারণ ধর্ষণের মামলা অপরিবর্তিত রয়েছে। গত বছর ও চলতি বছর—উভয় সময়েই এখানে ৯৮টি করে মামলা দায়ের হয়। তবে এখানে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা দ্বিগুণ হয়েছে (গত বছরের ৫টি থেকে বেড়ে চলতি বছর ১০টি)।ক্যান্ট বিভাগ: সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা গত বছরের ৫টি থেকে বেড়ে ৯টিতে দাঁড়িয়েছে।সিভিল লাইনস ও সিটি বিভাগ: সিভিল লাইনসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা ২টি থেকে বেড়ে ৩টি এবং সিটি বিভাগে ১টি থেকে বেড়ে ২টি হয়েছে।

সামা টিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকাশিত এই তথ্যগুলো কেবল পুলিশ স্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের করা মামলার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। সামাজিক ট্রমা ও আইনি জটিলতার ভয়ে অনেকেই থানায় যান না, যার ফলে লাহোরে প্রকৃতপক্ষে সংঘটিত যৌন নিপীড়নের মোট সংখ্যা এই পরিসংখ্যানের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।