হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত আরও ৩ যাত্রী শনাক্ত
প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কবলে পড়া প্রমোদতরী ‘এমভি হন্দিয়াস’ থেকে শেষ পর্যায়ের যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে নতুন করে আরও তিন যাত্রীর শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, এ পর্যন্ত জাহাজটির যাত্রীদের মধ্যে মোট ৭ জনের শরীরে হান্টাভাইরাস নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে এবং ২ জনের শরীরে এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জাহাজের ৩ জন যাত্রী মারা গেছেন, যাদের মধ্যে দুইজনের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
দেশে ফেরার পর এক মার্কিন নাগরিকের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে এবং আরেকজনের দেহে মৃদু উপসর্গ দেখা দিয়েছে। দুজনেই বর্তমানে ‘বায়োকন্টেইনমেন্ট ইউনিটে’ চিকিৎসাধীন। প্যারিসে আইসোলেশনে থাকা এক নারী রোগীর অবস্থার অবনতি হচ্ছে। তার সংস্পর্শে আসা ২২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। মাদ্রিদে কোয়ারেন্টাইনে থাকা এক স্প্যানিশ নাগরিক প্রাথমিকভাবে পজিটিভ হয়েছেন। এছাড়া আক্রান্ত দুই ব্রিটিশ নাগরিক বর্তমানে নেদারল্যান্ডস ও দক্ষিণ আফ্রিকায় চিকিৎসাধীন আছেন।
সোমবার স্পেনের টেনেরিফ থেকে জাহাজটি নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। প্রমোদতরীটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস’ জানিয়েছে, বর্তমানে জাহাজে ২৭ জন অবস্থান করছেন। এদের মধ্যে ২৫ জন ক্রু এবং ২ জন চিকিৎসাকর্মী। এই ২৭ জনের মধ্যে ১৭ জনই ফিলিপাইনের নাগরিক।
ডব্লিউএইচও ধারণা করছে, দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থানের সময় যাত্রীরা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সাধারণত ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়ালেও হান্টাভাইরাসের ‘অ্যান্ডিস স্ট্রেইন’ মানুষের মাধ্যমে ছড়াতে সক্ষম। এর প্রধান লক্ষণগুলো হলো— জ্বর, চরম ক্লান্তি, মাংসপেশিতে ব্যথা, বমি ও শ্বাসকষ্ট।