কোটালীপাড়ায় মৌমাছি চাষে স্বনির্ভর দুই যুবক

প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪১ অপরাহ্ণ
কোটালীপাড়ায় মৌমাছি চাষে স্বনির্ভর দুই যুবক

পলাশ চন্দ্র বিশ্বাস, জেলা প্রতিনিধি (গোপালগঞ্জ): গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার বড়ুয়া গ্রামে (কালিগঞ্জ বাজার সংলগ্ন) যৌথ উদ্যোগে মৌমাছি চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন দুই যুবক। তিন বছরের প্রশিক্ষণ শেষে স্বল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করলেও তাদের কঠোর পরিশ্রমে এই উদ্যোগে এসেছে বড় পরিবর্তন। প্রথমে ১০০টি মৌচাকের বাক্স দিয়ে কাজ শুরু করলেও বর্তমানে তাদের বাক্সের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০০ থেকে ৭০০টিতে।

প্রতিটি বাক্সে একটি করে রানি মৌমাছি থাকে, যার ডিম থেকে জন্ম নেয় শত শত কর্মী মৌমাছি। উপযুক্ত মৌসুমে এসব মৌমাছি সরিষা ও অন্যান্য ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে কৃত্রিম মৌচাকে জমা করে। পরবর্তীতে আধুনিক মেশিনের সাহায্যে তা নিষ্কাশন করে ব্যবহার উপযোগী খাঁটি মধু সংগ্রহ করা হয়।

প্রবীণ প্রশিক্ষক আবু তাহেরের নেতৃত্বে প্রাথমিকভাবে এই মৌচাষ শুরু হলেও বর্তমানে এটি পরিচালনা করছেন তরুণ উদ্যোক্তা আল-আমিন হোসেন (১৬) ও বাবু মল্লিক (২০)। উপযুক্ত মৌসুমে মধু বিক্রি করে প্রতি মাসে তাদের আয় হয় প্রায় তিন থেকে চার লাখ টাকা।

তবে বছরের প্রায় ৬ মাস মধুর অফ-সিজন হওয়ায় রানি মৌমাছি ও দলকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রচুর অর্থ খরচ করতে হয়। এই সময়ে আয় বন্ধ থাকায় তাদের সংসার চালাতে ও খামার পরিচর্যা করতে হিমশিম খেতে হয়।

মৌচাষী আল-আমিন জানান, অফ-সিজনে যদি সরকারিভাবে প্রণোদনা বা স্বল্পসুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হয়, তবে সারা বছর পুরোদমে মধু উৎপাদন ও খামার টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে কালিগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি প্রভাষ চন্দ্র বৈদ্য জানান, খাঁটি মধু পুষ্টিগুণসম্পন্ন একটি ভেষজ উপাদান। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ও তরুণদের স্বাবলম্বী করতে সরকারের উচিত মৌচাষীদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা ও সরকারি সুবিধা নিশ্চিত করা।

এআইএল/সকালবেলা