ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
ক্রীড়া ডেস্ক: বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অন্ধকার অধ্যায় রচিত হলো। সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের অনড় অবস্থান এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জেরে অবশেষে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ক্রিকেটীয় আলোচনার বদলে জেদ আর রাজনৈতিক প্রলেপ দেওয়াই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ।
ঘটনার সূত্রপাত: সবকিছুর শুরু মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। বিসিবি এই বিষয়ে আইসিসির কাছে ব্যাখ্যার দাবি জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু সেই আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার আগেই গত ৩ জানুয়ারি আসিফ নজরুল তাঁর ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে নিরাপত্তার অজুহাত তুলে বাংলাদেশ দলের ভারত সফরে যাওয়ার বিপক্ষে রায় দেন। তাঁর এই ব্যক্তিগত মন্তব্য রাতারাতি পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।
সরকারের অনড় অবস্থান: জানা গেছে, গত ১৩ জানুয়ারি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে বিসিবিকে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সচিব মাহবুব-উল আলম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়—ভারত বাদে অন্য কোনো দেশে খেলতে গেলেই কেবল সরকারি সহায়তা মিলবে। এই সিদ্ধান্তের ৯ দিন পর, ২২ জানুয়ারি এক পাঁচতারা হোটেলে ক্রিকেটারদের ডেকে এনে ভারতে না যাওয়ার পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেন তৎকালীন এই উপদেষ্টা।
আইসিসির সিদ্ধান্ত ও বিশ্বকাপ থেকে বিদায়: সরকারের এমন কঠোর অবস্থানের কারণে বিসিবি আইসিসির কাছে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কায় খেলার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলে এই প্রস্তাবের পক্ষে কোনো জোরালো সমর্থন আদায় করতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর আইসিসি ভোটাভুটির আয়োজন করে, যেখানে অধিকাংশ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর ফলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো বিশ্বকাপ আসর থেকে বঞ্চিত হলো লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দেশের কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তের স্বপ্ন এখন ধূলায় মিশেছে কেবল প্রশাসনিক অদূরদর্শিতা আর গোঁয়ার্তুমির কারণে।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ