ফেরেশতারা আল্লাহর অনুগত ও নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দা: পবিত্র কুরআনের বিশেষ নির্দেশনা

ফেরেশতারা আল্লাহর অনুগত ও নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দা: পবিত্র কুরআনের বিশেষ নির্দেশনা

 পবিত্র কুরআনের সূরা আম্বিয়ার ১৯ ও ২০ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের পরিচয় ও তাদের নিরন্তর ইবাদতের বর্ণনা দিয়ে মানুষের ভ্রান্ত ধারণা খণ্ডন করেছেন। আয়াতে ইরশাদ হয়েছে যে, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর অধীন এবং যারা তাঁর সান্নিধ্যে রয়েছে তারা অহংকারবশত তাঁর ইবাদত থেকে বিমুখ হয় না এবং কোনো প্রকার ক্লান্তিও বোধ করে না। তারা দিন-রাত আল্লাহর তাসবিহ পাঠে মগ্ন থাকে এবং এই কাজে তারা কখনোই শিথিলতা প্রদর্শন করে না। তাফসিরকারকদের মতে, তৎকালীন আরবের মুশরিকরা ফেরেশতাদের আল্লাহর সন্তান মনে করত এবং তাঁর প্রভুত্বের অংশীদার সাব্যস্ত করত। আল্লাহ তাআলা তাদের সেই ভ্রান্ত বিশ্বাস খণ্ডন করে স্পষ্ট করেছেন যে, ফেরেশতারা আল্লাহর দাস বা বান্দা মাত্র এবং তিনি তাদের নৈকট্য প্রদানের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন।

পবিত্র কুরআনের এই বর্ণনা থেকে মুমিনদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও বিধান ফুটে উঠেছে। প্রথমত, আল্লাহ তাআলা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এবং সৃষ্টিজগতের সবকিছুই তাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণাধীন। দ্বিতীয়ত, ফেরেশতারা আল্লাহর অত্যন্ত নৈকট্যপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও তারা কখনো অহংকার করে না, যা মানুষের জন্য বড় শিক্ষা যে কোনো অবস্থাতেই অহংকার করা কাম্য নয়। তৃতীয়ত, ফেরেশতাদের ইবাদতে কোনো ক্লান্তি বা অলসতা নেই; যা নির্দেশ করে যে মুমিনদের উচিত সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত ও নিষ্ঠার সাথে ইবাদত করা। পরিশেষে, সর্বদা আল্লাহর তাসবিহ বা গুণকীর্তন করা মহান রবের প্রিয় বান্দাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ফেরেশতাদের মতো এই গুণটি নিজের মধ্যে লালন করা একজন মুমিনের আত্মিক উন্নতির জন্য অত্যন্ত জরুরি।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন