ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
আসহাবিল ইয়ামিন: শীতের জনপ্রিয় পোশাক সোয়েট শার্টের গলার ঠিক নিচে উল্টো ত্রিভুজাকৃতি একটি নকশা অনেকেরই নজরে পড়ে। অধিকাংশ মানুষ একে ফ্যাশন মনে করলেও, প্রায় ১০০ বছর আগে শুরু হওয়া এই ‘ভি-নচ’ (V-notch) বা ‘ভি-স্টিচিং’ এর পেছনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যবহারিক কারণ।
ত্রিভুজ নকশার পেছনের কারণ:
১. ঘাম শোষণে সহায়তা: ১৯২০-এর দশকে যখন প্রথম সোয়েট শার্ট তৈরি হয়, তখন এটি মূলত অ্যাথলেট বা খেলোয়াড়দের জন্য ছিল। অনুশীলনের সময় ঘাড়ের ঘাম যেন চুইয়ে নিচে না নামে, সেজন্য এই বাড়তি ত্রিভুজাকার কাপড়টি দেওয়া হতো। এটি ঘাম শুষে নিয়ে খেলোয়াড়দের অস্বস্তি কমাত।
২. গলার অংশ মজবুত রাখা: সোয়েট শার্ট পরার সময় মাথা দিয়ে টেনে ঢোকানোর ফলে গলার কাপড়ে বেশ চাপ পড়ে। এই ত্রিভুজ অংশটি সেই চাপ সামলে নেয়। এটি বারবার ব্যবহারের ফলে গলার অংশটি ঢিলা হয়ে ঝুলে যাওয়া থেকে রক্ষা করে এবং পোশাককে টেকসই করে তোলে।
আধুনিক সোয়েট শার্টে এর গুরুত্ব: বর্তমানে উন্নতমানের কাপড় ও আধুনিক প্রযুক্তির কারণে ঘাম শোষণের জন্য এই নকশার আর বিশেষ প্রয়োজন পড়ে না। তবুও অনেক ব্র্যান্ড এটি ব্যবহার করে মূলত:
ভিন্টেজ লুক: পোশাকে একটি ক্ল্যাসিক বা পুরোনো আমেজ ধরে রাখতে।
ব্র্যান্ড ঐতিহ্য: ‘চ্যাম্পিয়ন’ বা ‘রাসেল অ্যাথলেটিক’-এর মতো ব্র্যান্ডগুলো তাদের সিগনেচার স্টাইল হিসেবে এটি ধরে রেখেছে।
অতিরিক্ত শক্তি: এখনো এটি গলার অংশকে কিছুটা বাড়তি সুরক্ষা দেয় যেন সহজে ছিঁড়ে না যায়।
ইতিহাসের সাক্ষী: ১৯২০ সালে উলের ভারী সোয়েটারের বিকল্প হিসেবে আরামদায়ক সোয়েট শার্ট তৈরি করা হয়। ১৯৫০ সালের দিকে এটি যখন সাধারণ মানুষের ফ্যাশনে জায়গা করে নেয়, তখন থেকেই এটি মূলত ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাধারণত গোল গলার (Crew neck) ক্ল্যাসিক সোয়েট শার্টেই এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যটি দেখা যায়।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ