মুন্সিগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধার হাত-পা ভেঙে দিল ছাত্রলীগ নেতা

মুন্সিগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধার হাত-পা ভেঙে দিল ছাত্রলীগ নেতা

মোঃ দুলাল সরকার, গজারিয়া (মুন্সিগঞ্জ): মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অতর্কিত হামলা চালিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। 

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন জিস্ট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মুক্তিযোদ্ধাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

আহত বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম অহিদুজ্জামান নাইম (৭২)। তিনি উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়নের বালুয়াকান্দী গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাক মাস্টারের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, জমির মাপজোখ সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে স্থানীয় নাসিমুল ও মনির হোসেনের সঙ্গে অহিদুজ্জামান নাইমের একটি সালিশ চলছিল। সালিশ চলাকালে তিনি একা মহাসড়কের পাশে গেলে গজারিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ও দনিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তুহিন প্রধানের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা রড দিয়ে পিটিয়ে তাঁর হাত-পা ভেঙে দেয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত তুহিনের বাবা খোকন প্রধানের সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধা অহিদুজ্জামানের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। আহত মুক্তিযোদ্ধা জানান, সালিশ থেকে বের হওয়ার পরপরই তুহিন ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে ঘিরে ফেলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শারমীন সুলতানা জানান, আহতের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তাঁর একটি হাত ও একটি পা ভেঙে গেছে এবং মাথার পেছনে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা তুহিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন