মুক্তাগাছায় ৪১ বিদ্যালয় মেরামতের ৩৬ লাখ টাকা নয়ছয়!

মুক্তাগাছায় ৪১ বিদ্যালয় মেরামতের ৩৬ লাখ টাকা নয়ছয়!

মোঃ হুমায়ুন কবীর, ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় ৪১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামতের জন্য বরাদ্দকৃত ৩৬ লাখ ৮৮ হাজার ৫ টাকা কাজ না করেই আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বরাদ্দকৃত টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে দ্বন্দ্ব শুরু হলে সম্প্রতি বিষয়টি ফাঁস হয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলার ৪১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামতের জন্য এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়। প্রতিটি বিদ্যালয়ের অনুকূলে ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তালিকাভুক্ত কোনো বিদ্যালয়েই নির্বাচনের আগে মেরামতের কাজ করা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে বরাদ্দের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের অভিযোগ, চেকে সই করার সময় উপজেলা শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী ও হিসাবরক্ষক মো. শহীদুর রহমান মোট বরাদ্দের ৩ শতাংশ টাকা নগদ ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এছাড়া সরকারি খরচ দেখিয়ে বরাদ্দের ২০ শতাংশ টাকা আগেই কেটে রাখার সত্যতা পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত হিসাবরক্ষক শহীদুর রহমান ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, "কাজ হয়েছে কি না তা দেখার দায়িত্ব উপজেলা প্রকৌশলীর। আমি শুধু একাউন্টস অফিসের বিল অনুযায়ী চেক বিতরণ করেছি।"

অন্যদিকে, চেচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, মেরামত কাজের বরাদ্দের টাকা দিয়ে মূলত ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। তিনি বলেন, "ইউএনও স্যার সিসি ক্যামেরার জন্য মাত্র ১৫ হাজার টাকা দিলেও আমাদের খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। ফলে মেরামতের টাকা সিসি ক্যামেরায় ব্যয় করতে হয়েছে।" একই অভিযোগ করেছেন নরকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাও।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কবিতা নন্দী ২০ শতাংশ টাকা কেটে রাখার বিষয়টি স্বীকার করলেও ৩ শতাংশ নগদ ঘুষের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, "কাজের সময় এখনো শেষ হয়নি, হয়তো তারা কাজ করবে। তবে উপজেলা প্রকৌশলীর প্রত্যয়ন নিয়েই চেক দেওয়া হয়েছে।"

এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৃষ্ণ চন্দ্রের সরকারি নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মুক্তাগাছার সচেতন মহলের দাবি, সরকারি অর্থের এমন নয়ছয়ের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন