আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় শক্তিশালী শীতকালীন ঝড়ের কবলে পড়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি জং ও মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ায় নড়বড়ে হয়ে পড়া ভবন ধসে এবং ঠান্ডাজনিত অসুস্থতায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি, যারা বর্তমানে অস্থায়ী প্লাস্টিকের তাঁবুতে বসবাস করছেন, তাদের জন্য এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ চরম মানবিক সংকট বয়ে এনেছে।
মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে একটি বড় অংশ শিশু ও বৃদ্ধ। ঝড়ের কারণে গাজার তাপমাত্রা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং পর্যাপ্ত গরম কাপড় ও জ্বালানির অভাবে অনেক শিশু হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। অন্যদিকে, ডেইলি জং জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় আগে থেকেই নড়বড়ে হয়ে থাকা বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন প্রবল বাতাসের চাপে ধসে পড়ে, যার নিচে চাপা পড়ে আরও বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান। গাজা সিটির শরণার্থী শিবিরগুলোতে ঝড়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে, যেখানে শত শত তাঁবু ঝোড়ো বাতাসে উড়ে গেছে।
গাজার সিভিল ডিফেন্স ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, ইসরায়েল কর্তৃক মানবিক সহায়তা ও পর্যাপ্ত ত্রিপল প্রবেশের ওপর বিধিনিষেধ জারি থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে, কিন্তু বিদ্যুৎ ও ওষুধের তীব্র সংকটে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ত্রাণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয় সামগ্রী ও খাদ্য সহায়তা না পৌঁছালে এই শীতকালীন দুর্যোগ আরও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে গাজার অধিকাংশ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ায় পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন হুমকি তৈরি করেছে।
আর.এম/সকালবেলা
মন্তব্য করুন