ওমান উপকূলে মাইনে আঘাত হেনে তেলবাহী সুপারট্যাংকারে আগুন

প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ওমান উপকূলে মাইনে আঘাত হেনে তেলবাহী সুপারট্যাংকারে আগুন

অনলাইন ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত কৌশলগত জলপথ ওমান সংলগ্ন আন্তর্জাতিক সাগরে নির্ধারিত নৌপথের বাইরে চলাচলের সময় প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি বিশাল আকারের সুপারট্যাংকার সামুদ্রিক মাইনে (নৌ-মাইন) আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

শক্তিশালী মাইনের বিস্ফোরণের পরপরই জাহাজটির মূল ইঞ্জিনকক্ষে আগুন ধরে যায় বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। তবে এই ঘটনার প্রকৃত সত্যতা নিরপেক্ষ কোনো আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) গালফ নিউজসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানি সেনাবাহিনীর পরাক্রমশালী শাখা আইআরজিসি জানিয়েছে, আক্রান্ত ওই বহুজাতিক সুপারট্যাংকারটি ইরানের নির্ধারিত অনুমোদিত সমুদ্রপথ ভঙ্গ করে বিপজ্জনক পথ দিয়ে অতিক্রম করছিল। একই সাথে জাহাজটি নিজের অবস্থান শনাক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ জিপিএস ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছিল।

হরমুজ প্রণালি ও ওমান সাগরে নিরাপত্তা স্বার্থে ইরান কর্তৃক সম্প্রতি আরোপিত নতুন যাতায়াত বিধিনিষেধ অমান্য করার কারণেই জাহাজটি তাদের বিশেষ নজরদারির আওতায় আসে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি। তবে প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকারটির সুনির্দিষ্ট নাম, কোন দেশের পতাকাবাহী জাহাজ, এর মূল মালিকানা সংস্থা, ক্রুদের বর্তমান অবস্থা এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সমুদ্রপৃষ্ঠে তেল ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশগত বিপর্যয় তৈরি হয়েছে কি না, তা-ও এখনো অস্পষ্ট।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পৃথক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইআরজিসি ও ইরানি সেনাবাহিনী গত কয়েক দিনের ব্যবধানে ওই এলাকায় একাধিক বিদেশি তেলবাহী ট্যাংকার ও মালবাহী জাহাজে একই ধরনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও ডুবে যাওয়ার ঘটনার দাবি করেছে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা (ইউকেএমটিও)। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই এই সংবেদনশীল সামুদ্রিক অঞ্চলে ধারাবাহিক হামলা ও নিরাপত্তাহীনতা চরমে পৌঁছেছে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল রুটে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা ও বিস্ফোরণের দাবির ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অতিরিক্ত ব্যয় এবং রেকর্ড পরিমাণের সামুদ্রিক বিমা প্রিমিয়াম বৃদ্ধি নিয়ে তীব্র বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।