আটকের সময় পুলিশ বলেছে ‘মোদি সরকারের পতন ঘটাও’: রাহুল গান্ধী

প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৯ অপরাহ্ণ
আটকের সময় পুলিশ বলেছে ‘মোদি সরকারের পতন ঘটাও’: রাহুল গান্ধী
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল থেকে আটক হওয়ার পর বাসে রাহুল গান্ধী।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট)-সহ নানা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে রাজপথে নেমে আটক হওয়ার পর চরম বিস্ফোরক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন ভারতের লোকসভার প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি দাবি করেছেন, তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার সময় দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্য অত্যন্ত গোপনে তাঁর কানে কানে বলেছিলেন, ‘এই (মোদি) সরকারের পতন ঘটিয়ে দাও।’

আজ বুধবার (২২ জুলাই) দিল্লিতে সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের আটক হওয়ার নাটকীয় অভিজ্ঞতার খতিয়ান তুলে ধরে এই চাঞ্চল্যকর ও সংবেদনশীল দাবি করেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী।

ইন্ডিয়া টুডের বরাতে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রশ্নপত্র ফাঁসের জটলা ও শিক্ষা খাতের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে রাজপথে নামা ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবন অভিমুখে বিশাল পদযাত্রার নেতৃত্ব দেন রাহুল গান্ধী। পদযাত্রাটি এগোনোর চেষ্টা করলে দিল্লি পুলিশ তাঁকে আটক করে পুলিশের বিশেষ বাসে তুলে নিয়ে যায়।

আটক হওয়ার পরদিনের প্রতিক্রিয়ায় রাহুল গান্ধী দাবি করেন, তাঁকে যখন পুলিশ জোরপূর্বক বাসে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্য ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কানে কানে ওই মোদি সরকারবিরোধী মন্তব্য করেন।

শিক্ষামন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থী আজ শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অনতিবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করছেন। কারণ তিনি একজন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে পুরোপুরি ও চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁকেই এই মুহূর্তে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে সরিয়ে দেওয়া উচিত। গোটা শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করার ক্ষেত্রে তিনি একজন সম্পূর্ণ অক্ষম ব্যক্তি।"

উল্লেখ্য, ভারতে সাম্প্রতিক নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কেলেঙ্কারি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই রাজধানীসহ দেশজুড়ে সর্বস্তরের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আহ্বানে ও সাধারণ তরুণদের পতাকাতলে শিক্ষার্থীরা রাজপথে টানা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন এবং শুরু থেকেই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগ দাবি করে আসছেন।

বিগত এক দশকের পরীক্ষার পরিসংখ্যান তুলে ধরে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, "ভারতের গত এক যুগে অন্তত ১৫২ বার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। যদি আপনি এর সঠিক হিসাব কষে দেখেন, তবে গড়ে প্রতি মাসে একবার করে কোনো না কোনো পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে দেশের প্রায় সাড় সাত কোটি পরীক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যাদের সিংহভাগই খেটে খাওয়া মধ্যবিত্ত। নিজেদের কষ্টার্জিত জীবনের সমস্ত সঞ্চয় সন্তানদের এই পরীক্ষার প্রস্তুতিতেই নিঃশেষ করে দিয়েছেন তাঁরা।"

ক্ষোভ প্রকাশ করে ভারতের এই প্রভাবশালী নেতা আরও বলেন, "সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ও দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো—গত ১০ বছরে একটিও বড় প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পেছনে দায়ী প্রভাবশালী কাউকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় বা বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি। প্রশাসনিক শাস্তির হার পুরোপুরি শূন্য।

মন্তব্য করুন