জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী বনি টাইলার আর নেই

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩১ অপরাহ্ণ
জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী বনি টাইলার আর নেই

বিনোদন ডেস্ক: বিশ্ব সংগীত জগতের অন্যতম এক জাদুকরী ও অনন্য কণ্ঠের অবসান ঘটল। ‘টোটাল একলিপস অফ দ্য হার্ট’, ‘হোল্ডিং আউট ফর আ হিরো’ এবং ‘ইটস আ হার্টেক’-এর মতো অসংখ্য বিশ্বখ্যাত ও কালজয়ী গানের জন্য পরিচিত ওয়েলশ পপ ও রক আইকন বনি টাইলার (Bonnie Tyler) মারা গেছেন। স্থানীয় সময় বুধবার (৮ জুলাই) রাতে পর্তুগালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে এই কিংবদন্তি গায়িকার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র বরাতে ‘নিউজ ডট এজেড’ বনি টাইলারের মৃত্যুর এই মর্মান্তিক খবরটি নিশ্চিত করেছে।

দক্ষিণ ওয়েলসের স্কিউয়েনের স্থায়ী বাসিন্দা এই গুণী শিল্পী গত মে মাসে পর্তুগালে থাকাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখানে তাঁর অন্ত্রে (Bowel) একটি জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচার পরবর্তী জটিলতার কারণে চিকিৎসকরা তাঁকে ‘ইনডিউসড কোমা’ বা কৃত্রিমভাবে আচ্ছন্ন অবস্থায় রেখেছিলেন। এর আগে বনি টাইলারের অফিশিয়াল মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, তিনি কোমা থেকে সফলভাবে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন, তবে তখনও তাঁর শারীরিক অবস্থা ‘অত্যন্ত আশঙ্কাজনক’ ছিল এবং তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে শিল্পীর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে বনি টাইলারের বিদায়ের খবর জানাচ্ছি। আমরা শিগগিরই পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেব, তবে আপাতত এই চরম মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য আমরা সবার কাছে আমাদের পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষার বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।”

এই অসামান্য গায়িকার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর জন্মভূমি ওয়েলসের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ওয়েলসের চ্যান্সেলর ও মন্ত্রী জো স্টিভেন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছেন, “বনি টাইলারের মৃত্যুর খবর শুনে বুকটা ভেঙে গেল। তিনি কেবল ওয়েলসের সংগীত জগতের এক প্রবাদপ্রতিম আইকন কিংবা গ্র্যামি ও ব্রিট পুরস্কার বিজয়ী শিল্পীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমার কৈশোরের সুরের এক পরম সঙ্গী।”

ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার রুন আপ ইয়োরওয়ার্থ বলেছেন, এই গায়িকা ছিলেন বিশ্ব সংগীতের এক ‘প্রকৃত আইকন’ এবং তাঁর আকস্মিক চলে যাওয়ার খবরে তিনি ‘গভীরভাবে শোকাহত’। উল্লেখ্য, চলতি মিউজিক সিজনে ওরচেস্টারের সানশাইন ফেস্টিভ্যাল এবং ইউরোপের আরও কয়েকটি বড় ভেন্যুতে বনি টাইলারের লাইভ কনসার্ট করার কথা ছিল। এছাড়া আগামী ১৭ ডিসেম্বর কার্ডিফের ঐতিহ্যবাহী ইউটিলিটা অ্যারেনাতেও তাঁর একটি বিশেষ একক গান গাওয়ার কথা চূড়ান্ত ছিল, যা আজীবনের জন্য অধরাই থেকে গেল।

বনি টাইলারের প্রকৃত নাম ছিল গেনর হপকিন্স (Gaynor Hopkins)। নিথ-এর একটি সাধারণ কাউন্সিল হাউসে অত্যন্ত সাদাসিধে পরিবেশে বেড়ে উঠেছিলেন তিনি। সোয়ানসির একটি স্থানীয় ক্লাবে গান গাওয়ার সময় বিখ্যাত ট্যালেন্ট স্কাউট রজার বেল তাঁর কণ্ঠের জাদু আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে তিনি তাঁর প্রথম একক গান ‘লস্ট ইন ফ্রান্স’ প্রকাশ করে সংগীত মহলে সাড়া ফেলেন। ওই বছরই প্রকাশিত তাঁর কান্ট্রি-পপ ঘরানার আইকনিক গান ‘ইটস আ হার্টেক’ যুক্তরাজ্যের সিঙ্গেলস চার্টে চতুর্থ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিলবোর্ড হট ১০০’ তালিকায় তৃতীয় স্থান অধিকার করে তাঁকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়।

এর ঠিক ছয় বছর পর, ১৯৮৩ সালে মুক্তি পায় তাঁর ক্যারিয়ারের তথা বিশ্ব সংগীত ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও জনপ্রিয় রক ঘরানার গান ‘টোটাল একলিপ্স অফ দ্য হার্ট’। গানটি রিলিজের পর আটলান্টিকের উভয় পাড়েই বিলবোর্ড চার্টের শীর্ষস্থান দখল করে নেয়। এর অভূতপূর্ব সাফল্যের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিলবোর্ড চার্টে এক নম্বর স্থান অর্জনকারী প্রথম ওয়েলশ শিল্পী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

অত্যন্ত নাটকীয় মেজাজের এই অমর গানটির কথা লিখেছিলেন বিশ্বখ্যাত রক গায়ক মিট লোফ-এর গীতিকার জিম স্টেইনম্যান। গানটির মূল শিরোনাম শুরুতে রাখা হয়েছিল ‘ভ্যাম্পায়ারস ইন লাভ’। কারণ এটি ‘নসফেরাতু’ (Nosferatu) চলচ্চিত্রের একটি মিউজিক্যাল সংস্করণের জন্য বিশেষভাবে লেখা হয়েছিল। বনি টাইলারের সেই দরাজ, খসখসে অথচ মেলোডিয়াস কণ্ঠস্বর বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি সংগীতপ্রেমীর হৃদয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।

মন্তব্য করুন