দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ৭ বছরের কারাদণ্ড
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের বিরুদ্ধে নিম্ন ও আপিল আদালতের দেওয়া ৭ বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ২০২৪ সালে দেশটিতে আকস্মিক ও বিতর্কিত সামরিক আইন জারির ব্যর্থ উদ্যোগ এবং এর পরবর্তী ঘটনাবলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অপরাধ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে এই রায় দেওয়া হলো।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দক্ষিণ কোরিয়ার সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি ইউন সুকের আপিল খারিজ করে রায় প্রদানকালে বলেন, “সাবেক প্রেসিডেন্টের করা সব আপিল খারিজ করা হলো। এই মামলার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী আদালতের রায়ের কোনো আইনি ব্যাখ্যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কাছে কোনো ভুল-বোঝাবুঝি বা অস্পষ্টতা পরিলক্ষিত হয়নি।”
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের এই চূড়ান্ত রায়ের পর ইউন সুক ইওলের আইনজীবীরা গভীর হতাশা ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, মামলার নথিপত্র পর্যাপ্ত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা ছাড়াই সুপ্রিম কোর্ট তড়িঘড়ি করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
ইউন সুকের একজন প্যানেল আইনজীবী গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা এই রায়ের পর দমে যাচ্ছি না। আমরা দেশের উচ্চ আদালতে সাংবিধানিক অভিযোগসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক পর্যালোচনার মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের সাংবিধানিক বৈধতাকে পুনরায় চ্যালেঞ্জ করব।”
এর আগে চলতি বছরের (২০২৬) জানুয়ারি মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি নিম্ন আদালত ক্ষমতার অপব্যবহার করা এবং নিজের রাজনৈতিক গ্রেপ্তার ঠেকাতে অন্যায়ভাবে প্রেসিডেন্টের বিশেষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ব্যবহার করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ইউন সুক ইওককে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রক্ষিতে আপিল আদালত সেই সাজা আরও বাড়িয়ে ৭ বছর করেন। আজ সুপ্রিম কোর্ট সেই ৭ বছরের সাজাই বহাল রাখলেন।
এদিকে, ২০২৪ সালের ওই বিতর্কিত সামরিক আইন জারির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার পৃথক আরেকটি গুরুতর মামলায় তিনি ইতিমধ্যেই নিম্ন আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। আদালতে অবশ্য ইওন সুকের দাবি ছিল, তৎকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে সামরিক আইন জারির সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ জনস্বার্থে নেওয়া হয়েছিল। তবে আদালত তাঁর এই যুক্তি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, এটি ছিল একটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত রাজনৈতিক পদক্ষেপ, যার ফলে দেশের বিপুল সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
এসব মামলার পাশাপাশি চিরবৈরী প্রতিবেশী উত্তর কোরিয়ায় বেআইনিভাবে সামরিক ড্রোন পাঠানোর অভিযোগে দায়ের করা আরেকটি স্পর্শকাতর মামলায় তাঁকে ইতিমধ্যে ৩০ বছরের দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব সাজা ছাড়াও সাবেক এই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আরও অন্তত ৫টি ভিন্ন ভিন্ন মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
প্রসঙ্গগত, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল বিরোধী দল সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করছে—এমন তীব্র অভিযোগ তুলে দেশজুড়ে সাময়িকভাবে কঠোর সামরিক আইন (মার্শাল ল) জারি করেছিলেন। তবে তাঁর এই ডিক্রি জারির পরপরই দেশটির পার্লামেন্ট সদস্যরা জরুরি অধিবেশনে ভোটের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে প্রেসিডেন্টের সেই বিতর্কিত সামরিক আইনের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাতিল করে দেন। এর পরেই ক্ষমতাচ্যুত হন ইউন এবং তাঁর বিরুদ্ধে শুরু হয় একের পর এক রাষ্ট্রীয় আইনি প্রক্রিয়া।
|