মমতার বক্তব্য ‘পলিটিক্যাল স্ট্যান্ট’, প্রতিক্রিয়া জানাবে না ঢাকা

প্রকাশ: শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:৪৩ অপরাহ্ণ
মমতার বক্তব্য ‘পলিটিক্যাল স্ট্যান্ট’, প্রতিক্রিয়া জানাবে না ঢাকা

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে পরোক্ষ মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তিনি পরিষ্কার করে বাংলাদেশে চাঞ্চল্যকর হাদি হত্যার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট শব্দ উচ্চারণ করেননি। 

গত মঙ্গলবার (২ জুন) কলকাতার ধর্মতলায় একটি সমাবেশে নিজের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, "বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে এসটিএফ অ্যারেস্ট করেছিল জেনে রাখুন, যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক রেভল্যুশন হয়েছিল। তারা মেঘালয় দিয়ে বাংলায় চলে আসে, তখন আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে।" এমনকি তিনি দাবি করেন, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে তাঁকে ফোন করে ‘দেশের স্বার্থে’ এই খবর চেপে যেতে বলেছিলেন। মমতা আরও দাবি করেন, তাঁর কাছে এই খুনিদের সব তথ্য আছে। মমতার এমন বক্তব্যে বাংলাদেশে তোলপাড় শুরু হলেও কূটনৈতিক মহল বিষয়টিকে কেবলই একটি ‘পলিটিক্যাল স্ট্যান্ট’ হিসেবে দেখছেন।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ে ১৫ বছর পর ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাছে ক্ষমতা হারান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানালে পশ্চিমবঙ্গের গভর্নর আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যের সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দেন এবং বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ফলে মমতা এখন রাজ্যটির প্রধান বিরোধীপক্ষ। চলতি বছরেরই মার্চ মাসে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) বাংলাদেশে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই মূল অভিযুক্ত—ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করে। তারা মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকেছিল বলে জানিয়েছিল পুলিশ। এর পরে ফিলিপ সাংমা নামে আরও একজনকে নদিয়ার শান্তিপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার আগে ফয়সাল করিম মাসুদকে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত বলে ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশের পুলিশ।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, মমতার কাছে যদি সত্যিই তথ্য থাকত, তবে তিনি ক্ষমতায় থাকতেই তা স্পষ্ট করতে পারতেন। সাবেক একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেন, "আমি মনে করি এটা একটা পলিটিক্যাল স্ট্যান্ট, কোনো কূটনৈতিক বার্তা নয়। মমতা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না করলেও কিছুটা ধারণা করা যায়। কিন্তু সেই ঘটনা যখন পশ্চিমবঙ্গে ঘটে তখন তিনি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তিনি তখনও ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরোধীপক্ষ ছিলেন, এখনও আছেন; অবস্থানের পরিবর্তন হয়েছে শুধু মুখ্যমন্ত্রী পদের। তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তথ্য গোপন করে গেছেন, এখন ক্ষমতা হারিয়ে বলছেন। এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অংশ, তাই এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত হবে না।"

এদিকে ঢাকার পক্ষ থেকেও এই বক্তব্যের কোনো প্রতিক্রিয়া না জানানোর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, মমতার বক্তব্য আলোচনার কোনো বিষয় নয়। সেটা নিয়ে এখানে বাংলাদেশের মন্তব্য করা উচিত হবে না বলে আমি মনে করি।" কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা আরও মনে করেন, সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর বিজেপির প্রতি রাজনৈতিক বিদ্বেষ থেকেই মমতা এই আচরণ করছেন এবং বাংলাদেশে এক ধরনের উত্তেজনা তৈরি করে মূলত বিজেপিকেই চাপে ফেলতে চাচ্ছেন।

মন্তব্য করুন